
মনোলোক ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় এক ছাত্রের মায়ের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় মারকাজুত তাজবীদ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইনকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। গতকাল শুক্রবার (১৫ মে) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে জিনদপুর বাজারে অবস্থিত ওই মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
যেভাবে ধরা পড়লেন প্রিন্সিপাল
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জিনদপুর বাজারের মারকাজুত তাজবীদ মাদ্রাসার একটি কক্ষে ওই নারী ও প্রিন্সিপাল মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইনকে সন্দেহজনক অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। দীর্ঘদিন ধরেই তাদের গতিবিধি নিয়ে সন্দেহ থাকায় গতকাল রাতে স্থানীয়রা তাদের হাতেনাতে আটক করেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে মুহূর্তের মধ্যে মাদ্রাসার বাইরে উৎসুক ও উত্তেজিত জনতার ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয় সচেতন মহল তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নবীনগর থানা পুলিশকে অবহিত করে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল ও ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
শিক্ষকদের বিস্ফোরক মন্তব্য
এদিকে মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইনের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন সময় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছিল। প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এমন আপত্তিকর ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন বলে দাবি করেন তারা।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের উদ্বেগ
এই ঘটনার পর থেকে জিনদপুর বাজার ও আশপাশের এলাকায় তীব্র নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। দ্বীনি শিক্ষার মতো একটি পবিত্র স্থানে এমন অনৈতিক ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় অভিভাবকেরা। তারা মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদুল আলম চৌধুরী জানান:
“মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও ওই নারীকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে আনা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বর্তমানে ওই এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।
Leave a Reply