
অনলাইন ডেস্ক, মনোলোক /:সোমবার,১৮মে,২০২৬:
বার্লিন: ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের স্থায়ী অবসান ঘটানোর জন্য জি-সেভেন (G7) রাষ্ট্রগুলোই সবচেয়ে উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম বা সঠিক ফোরাম বলে মন্তব্য করেছেন জার্মানির অর্থমন্ত্রী লার্স ক্লিঙবিল। সোমবার (১৮ মে) বার্লিনে এক বিবৃতিতে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। ক্লিঙবিল সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালী অবরোধের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুতর ও নজিরবিহীন হুমকি।
সোমবার ও মঙ্গলবার প্যারিসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জি-সেভেন দেশগুলোর অর্থমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকারদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে যোগ দিতে আজই প্যারিস সফরে যাচ্ছেন জার্মান অর্থমন্ত্রী।
প্যারিস সফরের প্রাক্কালে লার্স ক্লিঙবিল ইউরোপের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানের ওপর জোর দিয়ে বলেন,
“ইউরোপীয় হিসেবে আমাদের পথ অত্যন্ত স্পষ্ট: আমরা যেকোনো সংঘাতের পরিবর্তে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গভীর ভরসা রাখি। একই সাথে আমরা অংশীদারিত্ব, নির্ভরযোগ্যতা, মুক্ত বাণিজ্য এবং আইনের শাসনের শক্তির ওপর নির্ভর করে এগিয়ে যেতে চাই।”
স্বনির্ভরতার ওপর জোর
সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটগুলো জার্মানি তথা সামগ্রিক ইউরোপের জন্য এক বড় শিক্ষা হিসেবে দেখছেন জার্মান অর্থমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতি ইউরোপকে আরও স্বাধীন এবং টেকসই-স্থিতিশীল হওয়ার প্রয়োজনীয়তা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে কাঁচামাল সংগ্রহ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) বজায় রাখার ক্ষেত্রে ইউরোপকে স্বনির্ভর হতে হবে।
আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ
জি-সেভেন জোটের বাইরেও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্যারিস বৈঠকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব প্রসারিত করার অংশ হিসেবে এই সফরে ব্রাজিল, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া এবং কেনিয়ার অর্থমন্ত্রীদের সাথেও তাদের পৃথক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
ইউক্রেন থেকে নজর সরছে না জার্মানির
মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা চললেও, জার্মানি ইউক্রেনের ওপর থেকে তাদের ফোকাস হারাচ্ছে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন লার্স ক্লিঙবিল। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে ইউক্রেনের সাথে রাশিয়ার যুদ্ধ থেকে বিশ্ববাসীর মনোযোগ সরানোর হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না।
এই প্যারিস সফরেই জার্মান অর্থমন্ত্রী তার ইউক্রেনীয় প্রতিপক্ষ সের্গেই মার্চেঙ্কোর সাথে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘দ্বৈত কর চুক্তি’ (Double Taxation Agreement) স্বাক্ষর করবেন বলে নির্ধারিত রয়েছে। এই চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে ক্লিঙবিল বলেন, “এটি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক আদান-প্রদানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আইনি নিশ্চয়তা বৃদ্ধি করবে।”
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটের নিরাপত্তা এবং ইউক্রেন-মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মাঝে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে সচল রাখতে জার্মানির এই কূটনৈতিক তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ট্যাগ: #আন্তর্জাতিক #জিসেভেন #জার্মানি #ইরানসংকট #বিশ্বঅর্থনীতি #মনোলোকনিউজ
Leave a Reply