
অনলাইন ডেস্ক | মনোলোক | কলকাতা : আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় এলাকার গবাদি পশুর বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরকারি নতুন বিধিনিষেধের কারণে কুরবানির পশু বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় খামারিরা—যাদের অনেকেই হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য।
📉 বংশানুক্রমিক ব্যবসায় ধস
ভাঙড়ের ঘোষপাড়ার অধিকাংশ পরিবার দীর্ঘ ২০-৩০ বছর ধরে গরু মোটাতাজাকরণ ও দুগ্ধ খামারের সঙ্গে জড়িত। প্রতি বছর কুরবানির মৌসুমকে কেন্দ্র করেই তাদের প্রধান আয় নির্ভর করে।
কিন্তু এবছর নতুন আইনি জটিলতায় বাজারে ক্রেতা ও পাইকারদের আনাগোনা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ১৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করে খামার করা ব্যবসায়ীরা এখন বড় ধরনের লোকসানের মুখে।
📜 “গরুর জন্ম সার্টিফিকেট কোথায় পাবো?”
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট বয়সসীমা (১৪ বছর) পূরণ না হলে গরু বিক্রি বা জবাই করা যাবে না—এবং এর জন্য প্রয়োজন জন্ম সনদ।
এই নিয়মকে অবাস্তব আখ্যা দিয়ে খামারিরা প্রশ্ন তুলেছেন:
“মানুষের জন্ম নিবন্ধনই যেখানে কঠিন, সেখানে গরুর জন্ম সনদ কোথা থেকে পাওয়া সম্ভব?”
তাদের মতে, আধুনিক কৃষি ব্যবস্থায় ৮-৯ বছরের বেশি বয়সী গরু সাধারণত খামারে রাখা হয় না, ফলে নতুন এই নিয়ম বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
🐄 খাদ্য সংকটে পশু, বাড়ছে অনাহারের আশঙ্কা
বর্তমান সংকট শুধু অর্থনৈতিক নয়, মানবিক দিক থেকেও ভয়াবহ আকার নিচ্ছে।
ভুষি ও খড়ের দোকানে লাখ লাখ টাকা বকেয়া
নতুন করে বাকিতে খাবার দিতে অস্বীকৃতি
পশুদের ঠিকমতো খাবার জোগাতে ব্যর্থ খামারিরা
ফলে অনেক খামারে পশুগুলো অনাহারের ঝুঁকিতে পড়েছে বলে জানা গেছে।
⚠️ খামারিদের প্রধান সংকট
১. ক্রেতা ও পাইকারের অভাব
২. আগের বায়নার টাকা ফেরতের চাপ
৩. খাদ্য সংকট ও পশুর অনাহার
৪. ব্যাংক ও স্থানীয় ঋণের ভার
🤝 সম্প্রীতি অটুট, দাবি অর্থনৈতিক সমাধান
খামারিরা জানিয়েছেন, স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সম্প্রীতিপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। কুরবানির পশু বেচাকেনা কখনোই সাম্প্রদায়িক ইস্যু ছিল না—এটি পুরোপুরি জীবিকার প্রশ্ন।
📢 সরকারের কাছে দাবি
খামারিদের পক্ষ থেকে কয়েকটি জরুরি দাবি উত্থাপন করা হয়েছে
চলতি বছরের জন্য নিয়ম শিথিল করা
সরকারিভাবে গরু ক্রয়ের উদ্যোগ
বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা
অন্যথায় তারা রাজ্য সরকারের সদর দপ্তর ‘নবান্ন’ অভিমুখে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
🟡 মনোলোক পর্যবেক্ষণ:
হঠাৎ নীতিগত পরিবর্তন কৃষি ও খামার খাতের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রান্তিক উদ্যোক্তারাই।
Leave a Reply