
মনোলোক ডেস্ক:
রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী অংশ নেবেন না। ঢাকা আইনজীবী সমিতি (ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশন) আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
আজ শুক্রবার (২২ মে, ২০২৬) ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির এক বিশেষ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কালাম খান গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মোহাম্মদ কালাম খান জানান, “ঢাকা বারের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো অধিভুক্ত বা বিজ্ঞ আইনজীবী রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার আসামিদের পক্ষে আদালতে আইনি প্রতিনিধিত্ব বা মামলা পরিচালনা করবেন না। এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে আইনজীবীরা একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।”
ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত মঙ্গলবার (১৯ মে, ২০২৬) সকালে মিরপুরের পল্লবী এলাকার একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওই ফ্ল্যাটের বাথরুমের একটি বালতি থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করা হয়। রামিসা স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনার দিন সকালে রামিসা বাসা থেকে বের হলে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা (৩৪) কৌশলে তাকে নিজের কক্ষে ডেকে নেয়। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এরপর অপরাধ গোপন ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা শরীর থেকে আলাদা করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়।
আসামি গ্রেপ্তার ও স্বীকারোক্তি
হত্যাকাণ্ডের পর পরই স্থানীয় জনতা ফ্ল্যাট থেকে মূল অভিযুক্তের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করে। তবে প্রধান ঘাতক সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তী সময়ে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
ইতিমধ্যেই আদালতে হাজির করা হলে ঘাতক সোহেল রানা দণ্ডবিধির ১৬৪ ধারায় শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার নির্মম বিবরণ দিয়ে নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আদালত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
দ্রুত বিচার ও চার্জশিটের প্রস্তুতি
এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের পর পুরো দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নৃশংস ঘটনার বিচারকাজ সম্পন্ন করতে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ডিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন।
পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট সম্পন্ন করে আগামী রোববার (২৪ মে) এর মধ্যেই আদালতে এই মামলার নিখুঁত চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা সম্ভব হবে। দেশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ভুক্তভোগী পরিবারকে দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply