ইরান যুদ্ধ ঘিরে অর্থনৈতিক অস্থিরতা: যুক্তরাষ্ট্রকে জি-৭-এর সতর্কবার্তা
আপডেটের সময় :
বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
২১৩
সময়-দৃশ্য
মনোলোক আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২১ মে ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে জি-৭ভুক্ত দেশগুলো। বিশেষ করে ইউরোপের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জ্বালানি বাজার ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জোটের অর্থমন্ত্রীরা।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত জি-৭ অর্থমন্ত্রীদের সাম্প্রতিক দু’দিনের বৈঠকে এ উদ্বেগ তুলে ধরা হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলো হোয়াইট হাউসকে দ্রুত যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ইরনা’র বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানায়, জি-৭ নেতারা মনে করছেন—ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনীতিতে। বাড়ছে জ্বালানি ব্যয়, কমছে শিল্প উৎপাদন এবং চাপে পড়ছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।
জি-৭ অর্থমন্ত্রীদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ইউরোপজুড়ে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও সংকটে পড়তে পারে। কারণ জ্বালানি ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে কৃষি উৎপাদন ও পরিবহন খাতেও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
“ইরান মার্কিন রণতরীগুলোকে কার্যত অকার্যকর করেছে”
এদিকে রাশিয়ার ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ল’ ইনস্টিটিউটের সামরিক বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার স্তেপানভ দাবি করেছেন, ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বর্তমানে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীগুলোর কার্যকারিতা ব্যাপকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে।
রুশ বার্তা সংস্থা তাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
“ইরানের অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পাল্লা ও সক্ষমতা বিবেচনায় নিলে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী থেকে সরাসরি আক্রমণ পরিচালনা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা যত বাড়ছে, ততই বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি গভীর হচ্ছে। ফলে যুদ্ধের রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদি অভিঘাত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।
Leave a Reply