
মনোলোক নিউজ ডেস্ক:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে আট দশকের বেশি সময় আগে। অবসান ঘটেছে এডলফ হিটলারের নৃশংস নাৎসি সাম্রাজ্যের। কিন্তু হিটলারের সেই ধ্বংসযজ্ঞের ইতিহাস ঘেঁটে বের হয়ে এসেছে এক ভয়ঙ্কর সত্য। যুদ্ধ জয়ের উন্মাদনায় হিটলার তার সৈন্যদের জন্য যে বিধ্বংসী রাসায়নিক উদ্ভাবন বা ব্যবহার করেছিলেন, তা আজ রূপ বদলে আমাদের তরুণ সমাজকে গ্রাস করছে। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর মাদক ‘ইয়াবা’র মূল উৎস লুকিয়ে আছে হিটলারের সেই নাৎসি বাহিনীতেই।
ব্লিটজক্রিগ বা ‘ঝটিকা আক্রমণ’ এবং পারভিটিন (Pervitin)
১৯৩৯-৪০ সালের দিকে হিটলারের নাৎসি বাহিনী যখন ইউরোপজুড়ে তীব্র গতিতে আক্রমণ চালাচ্ছিল (যা ইতিহাসে ‘ব্লিটজক্রিগ’ বা ঝটিকা আক্রমণ নামে পরিচিত), তখন জার্মান সেনারা ক্লান্তিহীনভাবে দিন-রাত যুদ্ধ করত। নাওয়া-খাওয়া এবং ঘুম ভুলে টানা ৩-৪ দিন পর্যন্ত মার্চ করার পেছনে কোনো অলৌকিক শক্তি ছিল না; বরং ছিল একটি ছোট বড়ি বা ট্যাবলেট—যার নাম ‘পারভিটিন’ (Pervitin)।
জার্মান ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি টেমলার (Temmler) ১৯৩৮ সালে বাজারে আনে পারভিটিন। এটি আসলে ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী উদ্দীপক মেথঅ্যামফিটামিন (Methamphetamine)।
Source: Metrohm
সাধারণত লাল বা গোলাপি রঙের এই ছোট ট্যাবলেটটি আজ দক্ষিণ and দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়, বিশেষ করে আমাদের দেশে এক নীরব মহামারি সৃষ্টি করেছে। হিটলারের সেনারা যে রাসায়নিক ব্যবহার করে নিজেদের শরীর ও মস্তিষ্ককে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছিল, ঠিক সেই একই রাসায়নিক আজ আমাদের যুবসমাজকে ভেতর থেকে একবারে শেষ করে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে: ইয়াবা সেবনের ফলে সাময়িক চাঙ্গাভাব এলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি মানব মস্তিষ্কের স্নায়ু কোষগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। এর ফলে তীব্র অনিদ্রা, হ্যালুসিনেশন (ভ্রম), চরম মানসিক অবক্ষয়, লিভার ও কিডনি বিকল হওয়া এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি শতভাগ বেড়ে যায়।
হিটলারের সেই বিধ্বংসী যুদ্ধের অস্ত্র আজ মাদক ব্যবসায়ীদের হাত ধরে আমাদের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে, যা একটি পুরো প্রজন্মের মেধা ও ভবিষ্যৎকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। এই ভয়ঙ্কর আগ্রাসন থেকে সমাজ ও তরুণদের বাঁচাতে এখনই প্রয়োজন সর্বোচ্চ সামাজিক সচেতনতা এবং কঠোর আইনি প্রতিরোধ।
Leave a Reply