
নিজস্ব প্রতিবেদক, মনোলোক / নরসিংদী: খেলার ছলে নিজের মাথায় সিলভারের পাতিল ঢুকিয়ে চরম বিপাকে পড়েছিল দুই বছর বয়সী এক শিশু। দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি এবং নানা নাটকীয়তা শেষে হাসপাতালের চিকিৎসকদের বুদ্ধিমত্তায় একটি ওয়ার্কশপে নিয়ে পাতিল কেটে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে।
গত রবিবার (২৪ মে) দুপুরে নরসিংদী শহরের ব্রাহ্মন্দী এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী ওই শিশুর নাম অন্তিম (২)।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুরে বাড়িতে খেলার সময় ঘরের মেঝেতে থাকা একটি সিলভারের পাতিল কৌতুহলী হয়ে নিজের মাথায় ঢুকিয়ে ফেলে শিশু অন্তিম। কিন্তু পাতিলটি গলার অংশে গিয়ে এমনভাবে আটকে যায় যে, পরিবারের সদস্যরা অনেক চেষ্টা করেও তা আর বের করতে পারছিলেন না। একপর্যায়ে শিশুটি প্রচণ্ড কান্নাকাটি শুরু করলে এবং দম আটকে যাওয়ার উপক্রম হলে পরিবারের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে তাকে দ্রুত নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা দীর্ঘক্ষণ বিভিন্ন উপায়ে পাতিলটি খোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু পাতিলের মুখটি সরু হওয়ায় এবং শিশুর গলার চামড়ায় আটকে থাকায় চিকিৎসকদের সাধারণ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
অবস্থা বেগতিক দেখে এবং শিশুটির সুরক্ষার কথা চিন্তা করে নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ফরিদা গুলশানারা কবীর একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন। তাঁর বিশেষ তত্ত্বাবধানে শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালের পাশের একটি স্টিলের আলমারি তৈরির ওয়ার্কশপে (কারখানা) নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে ওয়ার্কশপের কারিগরেরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মেটাল কাটার কাঁচি ও সরঞ্জাম দিয়ে ধাতব পাতিলটি কেটে ফেলেন। প্রায় দুই ঘণ্টার এই রুদ্ধশ্বাস অভিযানের পর অবশেষে পাতিল মুক্ত হয় শিশু অন্তিম।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. ফরিদা গুলশানারা কবীর জানান, “শিশুটিকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, সে তখন প্রচণ্ড ছটফট করছিল ও কাঁদছিল। পাতিলটি গলার সাথে এমনভাবে আটকে ছিল যে আর কিছু সময় দেরি হলে শ্বাসনালী চেপে গিয়ে শ্বাসকষ্টের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। চিকিৎসকদের পক্ষে হাসপাতালে এটি কাটা সম্ভব না হওয়ায় আমরা দ্রুত পাশের ওয়ার্কশপের কারিগরদের সহায়তা নিই। আল্লাহর রহমতে শিশুটি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ ও অক্ষত আছে।” প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশুটির ছবি ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একই সাথে চিকিৎসকদের এই তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা ও মানবিক পদক্ষেপের প্রশংসাও করছেন সাধারণ মানুষ। তবে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে ঘরের যেকোনো ঝুঁকিপূর্ণ আসবাবপত্র বা তৈজসপত্র ব্যবহারে বাবা-মাকে আরও বেশি সতর্ক ও নজরদারিতে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
Leave a Reply