
মনোলোক ডেস্ক: চলতি বছরের বহুল প্রতীক্ষিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর আগেই মাঠের বাইরের ভূরাজনীতি উত্তপ্ত করে তুলেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ইরান ফুটবল দলের বেস ক্যাম্প (প্রশিক্ষণ কেন্দ্র) যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। আর এই জটিল পরিস্থিতিতে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানি দলকে আতিথেয়তা দিতে তাঁর দেশের “কোনো আপত্তি নেই”।
সোমবার (২৫ মে) মেক্সিকো সিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, খেলাটির বিশ্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা (FIFA) আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়াকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘রাত্রিবাস’ আপত্তি ও মেক্সিকোর সবুজ সংকেত
সংবাদ সম্মেলনে শেইনবাম প্রকাশ করেন যে, ফিফার একজন প্রতিনিধি তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের অনীহার কথা জানিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন:
“যুক্তরাষ্ট্র চায় না যে ইরানের জাতীয় দল বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলা বাদে বাকি সময় মার্কিন ভূখণ্ডে কাটাক কিংবা সেখানে রাত কাটাক।”
এরপর ফিফার প্রতিনিধি যখন জানতে চান যে ইরানি দল মেক্সিকোতে অবস্থান করতে পারবে কি না, তখন মেক্সিকো সরকার সানন্দে রাজি হয়। শেইনবাম বলেন, “আমরা বলেছি, ‘হ্যাঁ, কোনো সমস্যা নেই। এতে আমাদের বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই’।”
টুকসন থেকে টিহুয়ানা: যেভাবে বদলাল পরিকল্পনা
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ইরানের পরিকল্পনা ছিল অ্যারিজোনার টুকসনে তাদের বিশ্বকাপ ঘাঁটি স্থাপন করার। কিন্তু চলমান যুদ্ধ, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর ঠিক দক্ষিণে, মেক্সিকোর সীমান্ত শহর টিহুয়ানায় তাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার ইরানি ফুটবল ফেডারেশন প্রথম এই স্থানান্তরের কথা ঘোষণা করে। পরবর্তীতে সোমবার ফিফা তাদের প্রকাশিত ৪৮টি অফিশিয়াল বেস ক্যাম্পের তালিকায় টিহুয়ানাকে যুক্ত করে এই পদক্ষেপের আনুষ্ঠানিক সিলমোহর দেয়। দলগুলো মূলত ম্যাচের আগে ও পরে অনুশীলনের জন্য এই বেস ক্যাম্পগুলো ব্যবহার করবে।
ইরানের বিশ্বকাপ সূচি ও মাঠের লড়াই
বেস ক্যাম্প মেক্সিকোতে হলেও ইরানকে তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো খেলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই ভ্রমণ করতে হবে। আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশ্বকাপ। ইরানের সূচি অনুযায়ী:
১৫ জুন: ক্যালিফোর্নিয়ার ইংগলউডে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ইরান।
২১ জুন: একই ভেন্যুতে তারা লড়বে বেলজিয়ামের বিপক্ষে।
২৬ জুন: সিয়াটলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ মিশর।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অবস্থান
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য ইরানি দলকে স্বাগত জানানো হবে। তবে ইরানি দল কোথায় অবস্থান করবে বা মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের মন্তব্য নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরু হওয়ার আগেই মেক্সিকো সরকার ফিফার সাথে সমস্ত খুঁটিনাটি ও নিরাপত্তা বিষয়াদি চূড়ান্ত করতে নিবিড়ভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শেইনবাম। ক্রীড়াপ্রেমীদের আশা, মাঠের বাইরের এই রাজনৈতিক উত্তেজনাকে দূরে ঠেলে ফুটবলাররা মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেবেন।
Leave a Reply