
নিজস্ব প্রতিবেদক, মনোলোক / ঢাকা, ২৮ মে ২০২৬:সংসারের অভাব-অনটনের মাঝেও সন্তানদের মুখে একটুখানি হাসির ঝিলিক দেখতে চেয়েছিলেন দিনমজুর বাবা। অনেক কষ্টে জমানো টাকা দিয়ে আদরের সন্তানদের জন্য কিনেছিলেন ঈদের নতুন জামা। নতুন পোশাকের সেই আনন্দ আর হাসি নিয়ে বাড়ি ফেরার পথেই মুহূর্তের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেল। চোখের পলকে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারালেন মা ও তাঁর ১৮ মাস বয়সী শিশু সন্তান। পেছনে অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে কেবল এই মর্মান্তিক মৃত্যুর সাক্ষী হয়ে রইলেন ভাগ্যহত বাবা ও তাঁর কন্যাসন্তান।
বুধবার (২৭ মে) সন্ধ্যায় নরসিংদী রেলস্টেশনে ঘটে যায় এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। দ্রুতগতির ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মারা যান সাথী বেগম (২৭) ও তাঁর শিশুপুত্র সাফওয়ান ওরফে হাসেন (১৮ মাস)।
নিহতরা নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার কারারচর এলাকার বাসিন্দা। সাথী বেগম স্থানীয় দিনমজুর সুজন মিয়ার স্ত্রী।
নতুন জামার আনন্দ কেড়ে নিল দ্রুতগতির ট্রেন
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত সাথী বেগমের স্বামী সুজন মিয়া কখনো ইজিবাইক চালিয়ে, আবার কখনো রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করে কোনোমতে সংসার চালান। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে সন্তানদের মুখে একটুখানি আনন্দ ফুটিয়ে তুলতে বুধবার বিকেলে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নরসিংদী শহরে শপিং করতে এসেছিলেন তিনি। অনেক কষ্টে জমানো টাকা দিয়ে দুই শিশুর জন্য ঈদের নতুন জামা-কাপড়ও কেনেন।
শপিং শেষে সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে তাঁরা নরসিংদী রেলস্টেশনে পৌঁছান। রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম পার হওয়ার সময় হঠাৎ ঢাকা অভিমুখী দ্রুতগতির ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি চলে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে পড়েন কোলে শিশু সন্তানসহ মা সাথী বেগম। ঘটনাস্থলেই মা ও ছেলের নির্মম মৃত্যু হয়। তবে অলৌকিকভাবে অক্ষত অবস্থায় বেঁচে যান সুজন মিয়া ও তাঁর সাথে থাকা কন্যা শিশুটি।
এলাকায় শোকের ছায়া
চোখের সামনে চোখের আলো স্ত্রী আর কন্যাসন্তানসম পুত্রকে হারিয়ে রেলস্টেশনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সুজন মিয়া। তাঁর বুকফাটা আর্তনাদে উপস্থিত যাত্রী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের চোখও অশ্রুসজল হয়ে ওঠে।
এই খবর শিবপুরের কারারচর এলাকায় পৌঁছালে পুরো এলাকায় এক অন্ধকার ও শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রতিবেশীরা জানান, অভাবের সংসারে সন্তানদের ঈদের পোশাক দিতে পেরে সুজন ও সাথী দুজনেই খুব খুশি ছিলেন। কিন্তু সেই নতুন জামা আর ঘরে নিয়ে পৌঁছানো হলো না ছোট্ট সাফওয়ানের, আর সন্তানের হাত ধরে বাড়ি ফেরাও হলো না মা সাথী বেগমের।
রেলওয়ে পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রেলওয়ে ফাঁড়ির পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। অসাবধানতাবশত লাইনে উঠে যাওয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সবশেষ খবরের আপডেট জানতে চোখ রাখুন: www.monolok.net
Leave a Reply