
নিজস্ব প্রতিবেদক, মনোলোক: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাউল শিল্পী বিথী দেওয়ানকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণের চেষ্টার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর পর অভিযুক্ত মূলহোতা সেলিম মিয়াসহ দুইজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
ঘুমের বড়ি খাইয়ে অবচেতন করার চেষ্টা
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভৈরব উপজেলার আগানগর আনন্দ বাজার এলাকার সেলিম মিয়া এবং শরীয়তপুর জেলার আরও একজনসহ মোট ২ জন মিলে বাউল শিল্পী বিথী দেওয়ানকে টার্গেট করে। তারা কৌশলে বিথী দেওয়ানকে ৫টি ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে অবচেতন করে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ঘটনার পর দীর্ঘ ৭ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বিথী দেওয়ানের জ্ঞান ফেরেনি বলে জানা গেছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
জনপ্রিয় বাউল শিল্পী বিথী দেওয়ানকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে, বৌদি ও তার স্বামী মিলে তাকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে রাখে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুইজনকে আটক করেছে।
প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সেলিম মিয়া ও আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ অনুযায়ী, শিল্পীকে প্রায় ৫টি ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়, যার ফলে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘ সময়—প্রায় ৭ ঘণ্টা—অচেতন থাকার পর তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে।
🔴 আপডেট:
*বিথী দেওয়ান বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত সেডেটিভ নেওয়ার কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং দ্রুতই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
👁️🗨️ তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া:
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই এটিকে পরিকল্পিত হামলা বলে দাবি করছেন, আবার কেউ কেউ পারিবারিক বিরোধের দিকেও ইঙ্গিত করছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিমের জ্ঞান ফেরার পর তার বক্তব্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মায়ের জুতার বাড়িতে জ্ঞান হারাল অভিযুক্ত সেলিম
ঘটনাটি টের পেয়ে বিথী দেওয়ানের মা তাৎক্ষণিকভাবে সাহসিকতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেন। তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত সেলিম মিয়াকে জুতা দিয়ে গণধোলাই (বাইরানি) দেন। মায়ের জুতার উপর্যুপরি বাড়িতে একপর্যায়ে অভিযুক্ত সেলিম মিয়া ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
👁📌 মনোলোক মন্তব্য:একজন শিল্পীর সঙ্গে এমন ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি সমাজের নিরাপত্তা ও মানবিক মূল্যবোধের জন্যও বড় প্রশ্ন তুলে দেয়। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।
Leave a Reply