
আন্তর্জাতিক | মনোলোক
তারিখ: ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
ফিনিক্স, অ্যারিজোনা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং ইরানের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে তাঁর কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। অ্যারিজোনার ফিনিক্সে ‘টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ’ আয়োজিত এক রক্ষণশীল প্রচারমূলক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ড্রিম সিটি চার্চে অনুষ্ঠিত এই সভায় তরুণ রক্ষণশীল শ্রোতাদের সামনে ট্রাম্প তাঁর সাম্প্রতিক পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
হরমুজ প্রণালী ও মার্কিন নৌ অবরোধ
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, ইরান সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীকে “সম্পূর্ণ উন্মুক্ত এবং লেনদেনের জন্য প্রস্তুত” বলে ঘোষণা করেছে। তবে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই তথাকথিত “লেনদেন” শতভাগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ “পূর্ণ শক্তিতে” বহাল থাকবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান থেকে সরবে না।
ইউরেনিয়াম বা ‘পারমাণবিক ধূলিকণা’ বিতর্ক
বক্তৃতায় ট্রাম্প একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যৌথভাবে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা তার ভাষায় “পারমাণবিক ধূলিকণা” উত্তোলন করে ইরান থেকে অপসারণ করবে। যদিও ট্রাম্পের এই দাবির পরপরই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এটি নাকচ করে দিয়েছেন। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোথাও সরানো হচ্ছে না।
ন্যাটোকে তীব্র সমালোচনা ও ধিক্কার
ট্রাম্প যখন ন্যাটোর (NATO) ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন, তখন উপস্থিত তরুণ শ্রোতাদের মধ্য থেকে তীব্র ধিক্কার ও সমালোচনার শব্দ শোনা যায়। প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন যে, হরমুজ প্রণালী সচল করার ক্ষেত্রে ন্যাটোর দিক থেকে সমর্থনের যথেষ্ট অভাব ছিল। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোকে রক্ষায় প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করলেও জোটটির পক্ষ থেকে সাহায্য অনেক দেরিতে আসে।
লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ও পাকিস্তানের প্রশংসা
মধ্যপ্রাচ্যের সাফল্যে হিসেবে ট্রাম্প লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে “অভূতপূর্ব” যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত ৭৮ বছরের ইতিহাসে এমন ঘটনা এই প্রথম। এছাড়াও ইরানের সাথে একটি চুক্তির পথে কাজ করার ক্ষেত্রে “বিশাল সাহায্য” করার জন্য তিনি পাকিস্তান এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।
বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য যেমন একদিকে মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের চেষ্টা, অন্যদিকে মিত্রদেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগের একটি কৌশল। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং বৈশ্বিক তেলের বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্পের এই অনমনীয় মনোভাব আগামীর বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
Leave a Reply