
মনোলোক ডেস্ক / ০৪ জুন, ২০২৬ :
ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে কোনো চুক্তি বা সমঝোতা চূড়ান্ত হলে, তা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য এক মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। মার্কিন প্রভাবশালী সাময়িকী ‘ফরেন পলিসি’র এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বার্তা সংস্থা পার্সটুডে ও মেহর নিউজ এজেন্সির বরাতে এই খবর জানা গেছে।
‘ফরেন পলিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধের অবসান সংক্রান্ত কোনো চুক্তি সম্পন্ন হলে নেতানিয়াহু এক কঠিন রাজনৈতিক গোলকধাঁধায় পড়বেন। কারণ এমন পরিস্থিতি শুধু যে ইসরায়েলের ঘোষিত যুদ্ধকালীন লক্ষ্যগুলো পূরণে ব্যর্থতা প্রমাণ করবে তা নয়, বরং আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে খোদ ইসরায়েলের ভেতরেই প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানকে চরম নাজুক ও দুর্বল করে তুলবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্ভাব্য চুক্তি নেতানিয়াহুর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধীদের কাছে তাঁর একটি বড় পরাজয় হিসেবে গণ্য হবে। কারণ চুক্তির ফলে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা সম্পূর্ণ অক্ষত থাকবে এবং সেখানে সরকার পরিবর্তনের (Regime Change) কোনো সুযোগ বা সম্ভাবনা থাকবে না।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য চুক্তি: নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কি চরম সংকটে?
ট্রাম্পের ভূমিকা ও নেতানিয়াহুর নির্ভরতা
প্রতিবেদনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর নেতানিয়াহুর অতিরিক্ত নির্ভরতার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প ইরান প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছিলেন, “নেতানিয়াহু আমি যা চাইব তাই করবেন।” তবে ফরেন পলিসি মনে করে, ট্রাম্পের এই কথার প্রকৃত গভীরতা বা প্রভাব তখনই বোঝা যাবে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা একটি সমঝোতা স্মারকের চূড়ান্ত রূপ নেবে। মার্কিন এই সাময়িকীর দাবি, ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো নেতানিয়াহুকে এই যুদ্ধ-সমাপ্তির চুক্তি ভেস্তে দেওয়ার সুযোগ দেবেন না। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সমালোচনা সামাল দিতে ট্রাম্প উল্টো ইসরায়েলকেই এই উত্তেজনা বৃদ্ধি ও সংকটের জন্য আংশিকভাবে দায়ী বলে উপস্থাপন করতে পারেন।
লড়াইয়ের পর আরও শক্তিশালী ইরান
ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরে নিবন্ধে বলা হয়েছে, যুদ্ধের ধকল কাটিয়ে ইরান শুধু টিকেই থাকেনি, বরং আগের চেয়ে আরও বেশি সংহত ও শক্তিশালী হয়েছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করার সক্ষমতা এখনো তেহরানের হাতে একটি বড় কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে রয়ে গেছে। একই সাথে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোর ওপর কোনো কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপের স্পষ্ট লক্ষণও এই মুহূর্তে দেখা যাচ্ছে না।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের সমঝোতা চূড়ান্ত হলে আপাতত সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটবে এবং অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনার নতুন পথ উন্মুক্ত হবে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার ঝুঁকিও বহুলাংশে কমে যাবে। তবে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া এবং মার্কিন নৌ অবরোধ অবসানের পর, এই যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য প্রকৃতপক্ষে কে দায়ী—তা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে এক দীর্ঘ দোষারোপের প্রতিযোগিতা শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সমীকরণ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে এক নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
সূত্র: পার্সটুডে/মেহর নিউজ/ফরেন পলিসি
Leave a Reply