
বিশেষ প্রতিনিধি: এ. টি. এম. হুমায়ুন কাদির নান্দাইল (ময়মনসিংহ) | ৫ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষ, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক করতে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছে। বর্তমানে এলাকাটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল আনুমানিক ১২টার দিকে খারুয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রউফ এবং মো. শওকত আলীর সমর্থকদের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত মালিকানা নিয়ে বিরোধ ও তীব্র উত্তেজনা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার মধ্যাহ্নে উভয় পক্ষের শত শত সমর্থক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হয়।
সংঘর্ষ চলাকালীন পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এক পক্ষ অন্য পক্ষের ওপর অতর্কিত হামলা চালানোর পাশাপাশি স্থানীয় বাজারের বেশ কয়েকটি দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন, হামলার সময় দোকানগুলোর সাটার ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক মালামাল ও নগদ অর্থ লুটপাট করা হয়। সাধারণ ব্যবসায়ী এবং পথচারীদের মধ্যে এ সময় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।
সংঘর্ষের খবর পাওয়া মাত্রই নান্দাইল মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব-১০) বিশেষ দল অভিযানে যোগ দেয়। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি রুখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়। পুলিশের কঠোর অবস্থানের মুখে দাঙ্গাকারীরা পিছু হটে এবং পরিস্থিতি আংশিক শান্ত হয়।
সংঘর্ষ পরবর্তী সময়ে এলাকায় পুনরায় বড় ধরনের সহিংসতা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির আশঙ্কা দেখা দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত ঘটনার এক ঘণ্টার মাথায় অর্থাৎ দুপুর ১টায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। এই আদেশের ফলে উক্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, লাঠি বা দেশীয় অস্ত্র বহন এবং পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির একত্রে চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে খারুয়া গ্রাম ও আশেপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। র্যাব ও পুলিশের নিয়মিত টহল দল মোতায়েন থাকায় নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ সাপেক্ষে এবং পুলিশের পক্ষ থেকে দাঙ্গা সৃষ্টির অপরাধে সুনির্দিষ্ট আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
Leave a Reply