
মনোলোক ডেস্ক | আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ৬ জুন ২০২৬ ঢাকা: ইরাকের সাথে আট বছরব্যাপী পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) তৎকালীন কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যদি পুনরায় নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তার পরিধি কেবল নির্দিষ্ট সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এর বিস্তৃতি ঘটবে ভারত মহাসাগর থেকে শুরু করে লোহিত সাগর এবং ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত।
আমেরিকার সংঘাত থেকে ইরানের শিক্ষা: “আমেরিকার সাথে দীর্ঘ সংঘাত থেকে ইরান কী শিক্ষা নিয়েছে?”— মার্কিন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে জেনারেল রেজায়ি বলেন, এই দীর্ঘ লড়াইয়ের মাধ্যমে আমরা স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছি যে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের পথটি সম্পূর্ণ সঠিক ছিল। যদি আমাদের আদর্শ ও পথ সঠিক না হতো, তবে এই অসম যুদ্ধে আমরা অনেক আগেই ব্যর্থ ও পর্যুদস্ত হতাম। তিনি আরও বলেন, এই যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে সনাতন বা ক্লাসিক্যাল যুদ্ধের যুগের অবসান ঘটছে। একই সাথে বৈশ্বিক রাজনীতিতে আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এখন এটি সবার কাছে পরিষ্কার যে আমেরিকা একরকমভাবে ইসরায়েলের উপনিবেশে পরিণত হয়েছে।
পরমাণু চুক্তি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ: ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা বলেন, তেহরান তার সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে সর্বদা আন্তর্জাতিক বিধিবিধান এবং পরমাণু অস্ত্র অসংযুক্তি চুক্তি বা এনপিটি (NPT)-এর আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকেই সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এই নিয়ম মেনেই আমরা ৫+১ (পাঁচ যোগ এক) গ্রুপের সাথে ঐতিহাসিক জেসিপিওএ (JCPOA) চুক্তিতে পৌঁছেছিলাম। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে একতরফাভাবে সেই চুক্তি ছিঁড়ে ফেলেছেন। ফলে এখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার বিষয়ে ট্রাম্পের যে একগুঁয়ে জেদ, তার সততা ও উদ্দেশ্য নিয়ে তেহরান গভীরভাবে সন্দিহার।
আলোচনায় অচলাবস্থার জন্য দায়ী ট্রাম্প: আন্তর্জাতিক মহলে চলমান আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়ার জন্য ইরান দায়ী কি না— এমন অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমানে আলোচনার মূল সমস্যা হচ্ছে ট্রাম্প নিজেই। আলোচনার বল এখন সম্পূর্ণভাবে আমেরিকার কোর্টে রয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, আমেরিকার বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে আলোচনা টেবিলে এখন তীব্র অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, যার ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি বর্তমানে অচল হয়ে পড়েছে। ট্রাম্পকেই এই তৈরি করা অচলাবস্থা দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। ট্রাম্প বিশ্ব দরবারে দাবি করছেন যে তিনি ইরানের প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন, কিন্তু ইরানের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট— সংলাপের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হলে আমেরিকাকে প্রথমেই ইরানের অবরুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্পদগুলো নিঃশর্তভাবে ছেড়ে দিতে হবে।
সূত্র: পার্সটুডে/এমআরএইচ/মনোলোক নিউজ ডেস্ক
Leave a Reply