
মনোলোক ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে প্রতিনিয়ত এমন কিছু বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে যা সাধারণ মানুষের যুক্তি আর বিশ্বাসের সীমানাকে নাড়িয়ে দেয়। তেমনই এক অবিশ্বাস্য ও রহস্যময় ঘটনার সাক্ষী হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামের বাসিন্দারা। ঝড়ে উপড়ে পড়া এবং ডালপালা কেটে ফেলার পর একটি মরা গাছের গুঁড়ি অলৌকিকভাবে আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে! এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো এলাকাজুড়ে রীতিমতো হৈচৈ পড়ে গেছে।
🔍 যেভাবে ঘটলো এই অলৌকিক ঘটনা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় মাস আগে এক প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড়ে বিশাল গাছটি শিকড়সহ মাটিতে উপড়ে পড়ে। এরপর গাছটি বিক্রি করে দেওয়া হলে কাঠুরিয়ারা এসে এর ডালপালা কেটে টুকরো করতে শুরু করেন। কিন্তু ডালপালা কাটার পর, নিচের মূল গোড়ার অংশটি সম্পূর্ণ কাটা থাকা সত্ত্বেও গাছের অবশিষ্টাংশ হঠাৎ করেই অলৌকিকভাবে আবার আগের মতো সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়।
বাড়ির সদস্য শারমীন সুলতানা জানান:
“আমি নিজের চোখে গাছটি পড়তে দেখেছি, আবার কাটার পর সোজা হয়ে উঠে দাঁড়াতেও দেখেছি। গাছটি উঠে দাঁড়ানোর সাথে সাথেই ভয়ে ও বিস্ময়ে আমি চিৎকার করে উঠি। এরপর আশেপাশের মানুষ এসে জড়ো হয়।”
🚩 মণ্ডপে পরিণত হয়েছে গাছের চারপাশ, চলছে মানত
গাছটি সোজা হয়ে দাঁড়ানোর পর থেকেই সেটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক আবহ। স্থানীয়রা এটিকে ‘আল্লাহর কুদরত’ বা অলৌকিক ইশারা বলে মনে করছেন। বর্তমানে গাছটির নিচের অংশে লাল কাপড় জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং চারপাশে লাল নিশানা টানিয়ে সুরক্ষিত করা হয়েছে।
প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ এই অলৌকিক গাছ দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন। অনেকেই রোগবালাই থেকে মুক্তির আশায় গাছের শিকড় ও বাকল সংগ্রহ করছেন, আবার কেউ কেউ মোমবাতি-আগরবাতি জ্বালিয়ে মানত করছেন।
🪵 কাঠুরিয়ার দাবি: এর পেছনে রয়েছে অন্য রহস্য
গাছটি কাটতে আসা কাঠুরিয়া মো. আমিন মিয়া অবশ্য এর পেছনে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, এখানে অলৌকিক বা জিন-ভূতের কোনো বিষয় নেই। গাছটি যখন উপড়ে পড়েছিল, তখনো এর কিছু শিকড় মাটির নিচে সচল ছিল। ডালপালা কেটে ফেলার পর ওপরের অংশের ওজন কমে যায় এবং মাটির নিচে থাকা শিকড়ের টানে বা লিভার অ্যাকশনের (Lever Action) কারণে গুঁড়িটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবার খাড়া হয়ে গেছে। তার দাবি, গোড়ার বাকি অংশটুকু কেটে দিলে গাছটি আবার পড়ে যাবে।
যুক্তি আর বিশ্বাসের এই দোলাচলের মাঝেই বচিয়ারা গ্রামের এই ‘দাঁড়িয়ে থাকা গাছ’ এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
Leave a Reply