
মনোলোক / ৬ জুন ২০২৬ / পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও ভোগান্তি এখন চরম আকার ধারণ করেছে। দেশের অন্যান্য পাসপোর্ট অফিসের মতো এখানেও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য, মাত্রাতিরিক্ত ঘুষ বাণিজ্য, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কষ্ট এবং জরুরি প্রয়োজনেও পুলিশ ভেরিফিকেশনে কৃত্রিম হয়রানি নিত্যদিনের সাধারণ চিত্রে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আবেদনকারীদের দিনের পর দিন ঘুরিয়ে, পর্দার আড়ালে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে দ্রুত পাসপোর্ট সরবরাহ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাতীয় পরিচয়পত্রে (NID) তথ্যের সামান্য গরমিল থাকলে সাধারণ মানুষ যেখানে বছরের পর বছর ঘুরছেন, সেখানে দালালদের মোটা অঙ্কের টাকা দিলে অবৈধ উপায়ে পুরোনো এমআরপি (MRP) পাসপোর্ট নবায়ন করে দেওয়া হচ্ছে। অফিস কর্মকর্তাদের একাংশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগসাজশে এই শক্তিশালী দালাল চক্রটি সম্পূর্ণ সক্রিয় রয়েছে। তারা প্রতিনিয়ত নিরীহ সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। দালালের মাধ্যমে না এলে মূল ফরমে নানা অজুহাতে ভুলত্রুটি ধরে তা বাতিল বা আটকে দেওয়া হয়।
ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়; দূর-দূরান্ত থেকে আসা বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুদের জন্য বসার কোনো ন্যূনতম ব্যবস্থা বা সুপেয় পানির সুবিধা পর্যন্ত নেই এই আঞ্চলিক কার্যালয়টিতে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ার মতো ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। এই চরম অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের প্রতিবাদে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা একাধিকবার মানববন্ধন করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পর্যন্ত পাঠিয়েছেন।
নানা অনিয়মের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন সময়ে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান পরিচালনা করেছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির হাতেনাতে প্রমাণ মেলায় বেশ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আটক কিংবা সাময়িক বরখাস্ত করার খবরও বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে। তবে পাবনার সাধারণ ভুক্তভোগীদের দাবি, পাসপোর্ট অফিসকে সম্পূর্ণ ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত করে একটি জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে সরকারি পর্যায়ে কঠোর নজরদারি ও ডিজিটাল সেবার মান দ্রুত বাড়াতে হবে।
সংবাদ : সোলাইমান হোসাইন, পাবনা
Leave a Reply