
মনোলোক ডেস্ক | ৮ জুন ২০২৬ / ব্রাহ্মণবাড়িয়া: বাড়ির চারপাশে আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি নজরদারির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল মাদকের রমরমা কারবার। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মধ্যপাড়ার শান্তিবাগ এলাকার জুবলী রোডে অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারি চক্রের এক নারী সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত নারীর নাম শিপা বেগম (৩৯)। অভিযানে তার ঘর থেকে ২০টি ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির নগদ ২১ হাজার ৫২০ টাকা, একটি সিসিটিভি ভিডিও রেকর্ডার (DVR) এবং দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে গেছে তার স্বামী ও মূল হোতা মো. জিয়ামিন (৪২)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জিয়ামিন ও তার স্ত্রী শিপা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার একটি টিনশেড ঘরে বসে মাদক চোরাকারবার পরিচালনা করে আসছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা বাড়িটির চারপাশে তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেন। ঘরের ভেতর মনিটরের মাধ্যমে তারা বাইরের পরিস্থিতি এবং অপরিচিত ব্যক্তি বা পুলিশের যাতায়াত পর্যবেক্ষণ করতেন। কোনো সন্দেহভাজন বা পুলিশ দেখলেই তারা দ্রুত সতর্ক হয়ে যেতেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিশেষ করে রাতের বেলায় এই বাড়িতে মাদকসেবী ও বিভিন্ন বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যেত। সিসিটিভি নজরদারির মাধ্যমে পুরো এলাকা অবলোকন করায় এবং তাদের অপরাধমূলক সিন্ডিকেটের ভয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে কোনো প্রতিবাদ বা অভিযোগ করার সাহস পেতেন না।
শনিবার রাত ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল ওই বাড়িতে আকস্মিক অভিযান চালায়। বাড়ির মনিটরে পুলিশের উপস্থিতি দেখতে পেয়ে জিয়ামিন পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে গেলেও ঘর থেকে তার স্ত্রী শিপা বেগমকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
রোববার (৭ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “প্রযুক্তি ব্যবহার করে অত্যন্ত অভিনব ও চতুর কৌশলে এই মাদক ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছিল। তারা বাড়ির বাইরে তিনটি ক্যামেরা লাগিয়ে সরাসরি পুলিশের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত। অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক বিক্রির নগদ টাকা এবং নজরদারির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, পলাতক আসামি জিয়ামিনের বিরুদ্ধে পূর্বেরও একাধিক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত শিপা বেগমকে ইতিমধ্যে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং পলাতক জিয়ামিনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে এমন আধুনিক ও কৌশলগত অভিযান আগামীতেও জারি থাকবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
Leave a Reply