
কক্সবাজার | মনোলোক / রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬:
কক্সবাজারের কলাতলী সুগন্ধা এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খেয়ে রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শিক্ষাসফরের ৩০ জন পর্যটক গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তারা সবাই মারাত্মক ‘ফুড পয়জনিং’ বা খাদ্য বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর যৌথ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রেস্টুরেন্টকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
আনন্দ ভ্রমণ রূপ নিলো আতঙ্কে
শিক্ষাসফরের সদস্যরা জানান, রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ১৩০ জনের একটি দল গত সপ্তাহে কক্সবাজারে ভ্রমণে আসেন। সৈকত ভ্রমণের আনন্দঘন দিন শেষে গত শুক্রবার (১৫ মে) রাত ১১টার দিকে তারা সুগন্ধা পয়েন্টের ‘আল–গণি রেস্টুরেন্ট’-এ বারবিকিউ খেতে যান।
খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই একজন-দু’জন করে পর্যটক অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন। প্রথমে সাধারণ সমস্যা মনে হলেও ধীরে ধীরে একে একে ৩০ জন সদস্যের মধ্যে বমি, ডায়রিয়া ও তীব্র পেট ব্যথা শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে গেলে রাতেই তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ভ্রমণে আসা শিক্ষক আব্দুল মোমিন আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন,
“আমরা অনেক আনন্দ নিয়ে শিক্ষা সফরে এসেছিলাম। কিন্তু রাতে খাবার খাওয়ার পর হঠাৎ সবাই এভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় পুরো দলের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।”
চিকিৎসকদের বক্তব্য
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তানবী জান্নাত জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার পর থেকে আক্রান্ত পর্যটকরা হাসপাতালে আসতে শুরু করেন। সব মিলিয়ে ওই গ্রুপের ৩০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে সুস্থ হওয়ায় ১১ জনকে রাতেই ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকি ১৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়। পরে শনিবার (১৬ মে) দুপুরে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
প্রশাসনের যৌথ অভিযান ও জরিমানা
ঘটনার অভিযোগ পেয়ে শনিবার বিকেলে নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে সুগন্ধা পয়েন্টের আল–গণি রেস্টুরেন্টে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হাসান আল মারুফ জানান, অভিযানে রেস্টুরেন্টের রান্নাঘর ও খাবার তৈরির স্থান অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
একই দিন শহরের হোটেল সী প্যালেসের রেস্টুরেন্টেও অভিযান চালিয়ে সমপরিমাণ (৫০ হাজার টাকা) জরিমানা করা হয়। জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা শুভ্র দাশ বলেন,
“অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান। রেস্টুরেন্টটিতে প্রপার হাইজিন (সঠিক পরিচ্ছন্নতা) মেইনটেইন না করার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং খাবার তৈরির পরিবেশও মোটেও সন্তোষজনক ছিল না।”
রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের দাবি
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে আল–গণি রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা দাবি করেছে, তাদের রেস্টুরেন্টের খাবারের কারণে নয়, বরং সৈকত এলাকার বাইরে অন্য কোনো খোলা খাবার বা পানীয় খেয়ে পর্যটকেরা অসুস্থ হয়ে থাকতে পারেন।
এদিকে পর্যটন নগরীর নামকরা রেস্টুরেন্টগুলোতে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও খাবারের মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ পর্যটকরা। তাদের দাবি, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের স্বার্থে প্রশাসনের এই ধরনের তদারকি নিয়মিত চালু রাখা উচিত।
Leave a Reply