
শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় ফেরদৌস করপোরেশন লিমিটেডের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) জানিয়েছে, ইয়ার্ডে নোঙর করা একটি পুরোনো এলএনজি পরিবহনকারী জাহাজের ভেতরে স্ক্র্যাপ কাটিংয়ের কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। এ সময় হঠাৎ গ্যাস লিকেজ হয়ে জাহাজের ভেতরে অতিরিক্ত কার্বন মনোক্সাইড ছড়িয়ে পড়ে। এতে অক্সিজেনের ঘাটতিতে শ্রমিকদের তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং অনেকে অচেতন হয়ে পড়েন।
ঘটনাস্থলেই পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজন মারা যান। পরে বিকেলে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর ডিআইএফইর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এর আগেও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করার অভিযোগে একাধিকবার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
ডিআইএফই জানায়, গত ২ ফেব্রুয়ারি প্রথম পরিদর্শনে শিপইয়ার্ডে বেশ কিছু নিরাপত্তা ত্রুটি চিহ্নিত করে তা সংশোধনের জন্য কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়। পরে ৪ মে পুনরায় পরিদর্শন করে আগের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় তাগিদ দেওয়া হয়।
একাধিকবার তাগিদ দেওয়ার পরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করায় গত ১৫ জুলাই চট্টগ্রাম শ্রম আদালতে ফেরদৌস করপোরেশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
চট্টগ্রাম কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান জানান, নিয়মিত পরিদর্শনে শিপইয়ার্ডে নিরাপত্তাজনিত ব্যত্যয় পাওয়ার পর সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করায় শেষ পর্যন্ত মামলা করা হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ডিআইএফইর প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় উত্তেজিত জনতার হামলায় দুই শ্রম পরিদর্শক গুরুতর আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিরাপত্তা নির্দেশনা অমান্য করে কীভাবে শিপইয়ার্ডের কার্যক্রম চলছিল এবং দুর্ঘটনার জন্য কারও দায় রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মনোলোক | www.monolok.net
Leave a Reply