
সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা | মনোলোক 🔗 👇
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এক মুসলিম তরুণীকে বিয়ের পর দুই সন্তান রেখে পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে অন্য তরুণীকে বিয়ের অভিযোগে এক যুবকের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী প্রথম স্ত্রী শিপুল আক্তার খানম (২৭) বাদী হয়ে নেত্রকোনা সদর আমলী আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন খালিয়াজুরী উপজেলার শালদীঘা গ্রামের মৃত জয় কৃষ্ণধরের ছেলে অর্জুন ধর হীরা ওরফে হীরা ধর (৩০)। এতে অর্জুনের মা কৃষ্ণা রানী ঘোষকেও (৫৮) আসামি করা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন শুভ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত ২০ জুলাই আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।
প্রেম, ধর্মান্তর ও সংসারের সূচনা
মামলার অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অর্জুন ধর হীরা মোহনগঞ্জ পৌরশহরের দৌলতপুর এলাকায় বসবাস করার সময় স্থানীয় তরুণী শিপুল আক্তারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। ২০১৪ সালে আদালতের অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম রাখেন ‘মো. হীরা মিয়া’। এরপর মুসলিম রীতি অনুযায়ী তিনি শিপুলকে বিয়ে করেন।
পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালে তাঁদের কোলজুড়ে আসে কন্যাসন্তান জান্নাতুল হিয়া এবং ২০২২ সালে জন্ম নেয় পুত্রসন্তান আব্দুল্লাহ। মুসলিম পরিচয় বহাল থাকা অবস্থায় তিনি নিয়মিত নামাজ-রোজা পালন করতেন বলে ভুক্তভোগী জানান। তবে বিভিন্ন অজুহাতে তিনি কখনোই কাবিন রেজিস্ট্রি করেননি।
পুনরায় ধর্মান্তর ও নির্যাতন
অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সালে দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পরপরই মায়ের প্ররোচনায় অর্জুন ধর পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে যান এবং গোপনে স্থানীয় এক হিন্দু তরুণীকে বিয়ে করেন। বিষয়টি প্রকাশ পেলে তিনি স্ত্রীর ওপর যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো শুরু করেন।
নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শিপুল খানম ২০২৫ সালের মে মাসে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে অভিযোগ করলে ৪ জুন নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে একটি আপসনামা সম্পাদিত হয়। এতে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ ও বাড়ি নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও অর্জুন ও তাঁর মা কোনো শর্তই পূরণ করেননি।
সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা
ভুক্তভোগী শিপুল খানম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“স্বামী ও শাশুড়ি পরস্পর যোগসাজশে আমার সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে বড় প্রতারণা করেছে। আজ আমার দুই সন্তানের বাবার পরিচয় নিয়ে আমি চরম শঙ্কিত। সমাজে কোন পরিচয়ে ওরা বড় হবে, ওদের ভবিষ্যৎ কী—তা আল্লাহই জানেন।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত অর্জুন ধর হীরার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “অনেক আগেই আমি শিপুলকে ডিভোর্স দিয়েছি। তারপর আমি কী করব না করব, তা তার জানার বিষয় নয়।” এই বলেই তিনি ফোন কেটে দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নেত্রকোনা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জামান আলী জানান, মামলার তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত গতিতে চলছে এবং শিগগিরই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
Leave a Reply