
নাসির-তামিমার বহুল আলোচিত মামলার রায় আগামীকাল
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা / মনোলোক
জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অলরাউন্ডার নাসির হোসেন এবং তাঁর স্ত্রী সৌদি এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে দায়ের করা বহুল আলোচিত ‘বিয়ে-বিভ্রাট’ ও ব্যভিচার মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামীকাল (বুধবার)।
ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জশিতা ইসলাম এই রায় ঘোষণা করবেন। মামলাটিতে অপরাধ প্রমাণিত হলে নাসির ও তামিমার সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত মে মাসে এই মামলার উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক (আর্গুমেন্ট) শুনানি শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ দাবি করেছে, তারা সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং শরীয়াহ আইন মেনেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। ফলে তারা খালাস পাওয়ার যোগ্য।
কী ঘটেছিল এই মামলার পেছনে?
ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, ভালোবাসা দিবসে। জমকালো আয়োজনে কেবিন ক্রু তামিমা সুলতানাকে বিয়ে করেন ক্রিকেটার নাসির হোসেন। বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই নাসিরের বিরুদ্ধে নিজের স্ত্রীকে চুরির অভিযোগ তোলেন তামিমার প্রথম স্বামী রকিব হাসান।
রকিবের দাবি, ২০১১ সালে তামিমার সাথে তাঁর বিয়ে হয় এবং তাদের সংসারে ৮ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তাঁকে আইনগতভাবে ডিভোর্স বা তালাক না দিয়েই তামিমা ক্রিকেটার নাসিরকে বিয়ে করেছেন, যা দেশের আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
এই অভিযোগে ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন রকিব হাসান। দণ্ডবিধির ৪৯৪ (স্বামী/স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় পুনরায় বিয়ে), ৪৯৭ (ব্যভিচার), ৫০০ (মানহানি) এবং ৩৪ ধারায় এই মামলা করা হয়।
তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া:
মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পিবিআই আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, তামিমা তাঁর প্রথম স্বামী রকিবকে যে তালাক নোটিশ দিয়েছিলেন, তা জালিয়াতি ছিল। আইনগতভাবে রকিব ও তামিমার ডিভোর্স হয়নি। ফলে ক্রিকেটার নাসির ও তামিমার বিয়েটি অবৈধ।
এরপর ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। বিচার চলাকালীন আদালত রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষের মোট ১০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। যার মধ্যে তামিমার প্রথম পক্ষের কন্যাসন্তানও মায়ের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করে।
আইনজীবীদের বক্তব্য:
বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন, “পিবিআই-এর তদন্ত এবং ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে তামিমা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন এবং প্রথম স্বামীকে তালাক না দিয়ে নাসিরকে বিয়ে করেছেন। আমরা আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যাপারে আশাবাদী।”
অন্যদিকে নাসিরের আইনজীবী দাবি করেন, “তামিমা নিয়ম মেনেই তালাক দিয়েছিলেন, কিন্তু আইনি কিছু প্রক্রিয়াগত ভুলের সুযোগ নিয়ে বাদীপক্ষ এই মামলাটি করেছে। আগামীকাল আদালত আমাদের মক্কেলদের খালাস দেবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের পর থেকে এই মামলার কারণে ক্রিকেটার নাসিরের ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা লাগে এবং তিনি জাতীয় দল ও ঘরোয়া ক্রিকেটে অনিয়মিত হয়ে পড়েন। আগামীকালকের রায়ের দিকে এখন তাকিয়ে আছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও আমজনতা।
Leave a Reply