
মনোলোক | জামালপুর সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ১৫ টাকা কেজি দরের চাল নিয়ে জামালপুরের কৈডোলায় ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মোফাজ্জল হোসেন (মুবা)-এর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চালের অবৈধ সিন্ডিকেট গড়ে তোলার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।
অসহায়দের চাল সিন্ডিকেটের দখলে
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কার্ডধারীদের ৩০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা থাকলেও, কৈডোলা বাজারে ডিলার ‘নাদিয়া ইসলাম’-এর কেন্দ্রে চিত্র ভিন্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন সুবিধাভোগীদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সরাসরি চাল কিনে নিচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, ডিলারের যোগসাজশেই এই ৪৮৪টি কার্ডের চাল প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
“এমপির জন্য টাকা খরচ করেছি, এখন উসুল করব না তো কখন?”
অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা যাচাই করতে গেলে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন মোফাজ্জল হোসেন। তিনি দম্ভোক্তি করে বলেন:
“অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা করে ডিলারশিপ নিয়েছি। সদর-৫ আসনের এমপির জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ করেছি, এখন এসব করব না তো কখন করব?”
তার এমন বক্তব্য এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহলের মতে, একজন রাজনৈতিক নেতার মুখে এমন মন্তব্য সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন।
লক্ষ্য আগামী মেম্বার নির্বাচন
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগামী মেম্বার নির্বাচনকে সামনে রেখেই এই চাল মজুত করছেন মোফাজ্জল। হতদরিদ্রদের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে চাল কিনে তিনি তা জমা করছেন, যাতে নির্বাচনের আগে ভোটারদের মাঝে বিতরণ করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করা যায়।
পুরোনো অপরাধী, অধরা সিন্ডিকেট
উল্লেখ্য যে, মোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে অতীতেও অবৈধ চাল কেনাবেচার দায়ে জেল খাটার রেকর্ড রয়েছে। বারবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়লেও কোনো এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় তিনি পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
সরকারের এই মানবিক কর্মসূচিকে পুঁজি করে যারা ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সচেতন নাগরিক সমাজ অবিলম্বে এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে চাল পৌঁছে দিতে এবং অভিযুক্ত মোফাজ্জল হোসেনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রতিবেদক: মোঃ আহসান হাবীব সুমন ও গৌরাঙ্গ বিশ্বাস।
Leave a Reply