
মনোলোক : গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ‘উচ্চ সতর্কতা’ বার্তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ‘বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর’-এর বরাত দিয়ে ছড়ানো এই বার্তায় দাবি করা হচ্ছে, আগামী ২৯ এপ্রিল থেকে ১২ মে পর্যন্ত তাপমাত্রা ৪৫° সেলসিয়াস থেকে শুরু করে ৫৫° সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া নির্দিষ্ট সময়ে বাইরে বের না হওয়া, মোবাইল ব্যবহার কমানো, এমনকি গাড়ির ফুয়েল ট্যাঙ্ক পুরোপুরি ভর্তি না করার মতো একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে সত্যতা:
মনোলোক ফ্যাক্ট চেক এবং আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই সতর্কবার্তাটি সম্পূর্ণরূপে ভুয়া এবং বিভ্রান্তিকর। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলেও ৫০ ডিগ্রি বা ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর কোনো বাস্তব সম্ভাবনা বা বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস নেই। এছাড়া বাংলাদেশে ‘বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর’ নামে কোনো নির্দিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান এই ধরনের বার্তা জারি করেনি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বক্তব্য:
আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই বার্তাটি গুজব। জনমনে অযথা ভয় ও আতঙ্ক তৈরি করতেই এই ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তারা জনসাধারণকে শুধুমাত্র সরকারি মাধ্যম ও বিশ্বস্ত গণমাধ্যমের তথ্য বিশ্বাস করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
তীব্র গরমে প্রকৃত করণীয়:
যদিও ৫৫ ডিগ্রি তাপমাত্রার খবরটি গুজব, তবুও বাংলাদেশে এখন তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। এই সময়ে সুস্থ থাকতে মনোলোক-এর পক্ষ থেকে কিছু প্রকৃত এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরামর্শ দেওয়া হলো:
১. পর্যাপ্ত তরল পান: তৃষ্ণা না পেলেও প্রচুর পরিমাণে জল, ডাব, লেবুর শরবত, দই ও ঘোল পান করুন।
২. সূর্যের আলো পরিহার: বিশেষ করে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খুব প্রয়োজন ছাড়া খোলা আকাশের নিচে রোদে যাবেন না।
৩. সঠিক পোশাক: হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন। বাইরে বের হলে ছাতা, টুপি বা ওড়না দিয়ে মাথা ঢেকে রাখুন।
৪. অতিরিক্ত সতর্কতা: শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নিন। শ্বাসকষ্ট বা হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
৫. ঘরের পরিবেশ: ঘরের ভেতরের দরজা-জানালা খোলা রাখুন যাতে বায়ু চলাচল করতে পারে। এসি ব্যবহার করলে তা ২৪-২৫° সেলসিয়াসে রাখুন।
বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান দেবেন না, সতর্ক থাকুন এবং সুস্থ থাকুন।
Leave a Reply