নেত্রকোনা | মনোলোক : নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল এবং ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের অভিযোগে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে (৫০) দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
গত বুধবার রাতে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি খোকন আহমেদ ডিলার ও সাধারণ সম্পাদক মো. মোয়াজ্জেন হোসেন খান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বকুলকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ছাত্রী যখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত (২০২২ সালের নভেম্বর), তখন তাকে ভয় দেখিয়ে ও প্রলোভন দেখিয়ে বকুল মিয়া একটি বাড়িতে নিয়ে প্রথম ধর্ষণ করে এবং গোপনে সেই ভিডিও ধারণ করে রাখে। পরবর্তীতে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে একাধিক ব্যক্তির মাধ্যমে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ করানো হয়। বর্তমানে ওই স্কুলছাত্রী ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি ছাত্রীটি পুনরায় অসামাজিক কাজে রাজি না হওয়ায় অভিযুক্তরা ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে। পরবর্তীতে গত ২৬ আগস্ট ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে প্রধান আসামি করে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি মো. আবু মিয়াকে (৩৬) গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। ঘটনার পর থেকে প্রধান আসামি বিএনপি নেতা বকুল মিয়াসহ অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার প্রধান আসামিসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
Leave a Reply