
মনোলোক : সহজ শপিং ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নাম
ভাঙিয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ‘দারাজ’-এ চলছে মারাত্মক অনিয়ম ও অবৈধ বাণিজ্য।
কোনো প্রকার অ্যালগরিদম ফিল্টারিং বা পণ্য যাচাই ছাড়াই প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য, মাদক সেবনের সরঞ্জাম এবং অননুমোদিত যৌন উত্তেজক ওষুধ।
এসব অভিযোগে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
যেভাবে চলছে অবৈধ পণ্যের রমরমা বাণিজ্য
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আইনি নজরদারি ও অ্যালগরিদমের চোখ ফাঁকি দিতে অভিনব কৌশল অবলম্বন করছে অসাধু বিক্রেতারা।
অনলাইন শপিংয়ের আড়ালে অবৈধ বাণিজ্য: দারাজের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মামলা।
প্রসাধন ও এসেনশিয়াল অয়েলের আড়ালে তরল মাদক
‘এয়ার ফ্রেশনার’ বা ‘এসেনশিয়াল অয়েল’-এর নামে উচ্চমাত্রার ক্যানাবিস নির্যাস (টিএইচসি) ও সিবিডি অয়েল বিক্রি করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
* ** অননুমোদিত কেমিক্যাল ও ওষুধ **
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া ও কোনো প্রকার চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ‘ফুড সাপ্লিমেন্ট’ বা ‘হার্বাল প্রোডাক্ট’ ট্যাগ দিয়ে রমরমা ব্যবসা চলছে যৌন উত্তেজক ওষুধের, যা তরুণদের জন্য মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক ঝুঁকিপূর্ণ।

অনলাইন শপিংয়ের আড়ালে অবৈধ বাণিজ্য: দারাজের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মামলা
ডিএনসি-এর অভিযান ও দেশের ইতিহাসে প্রথম ডিজিটাল মাদক মামলা
সম্প্রতি দারাজের লোগোযুক্ত প্যাকেটে তরল মাদক বিক্রির তথ্য পেয়ে বড় ধরনের অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ছদ্মবেশে ক্রেতা সেজে অনলাইনে অর্ডার দিয়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকা মূল্যের ৬২০ মিলিলিটার তরল ‘টিএইচসি’ উদ্ধার করা হয় এবং মূল কেমিস্টকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মাদক বিক্রির অভিযোগে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাড্ডা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় দারাজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সেলারদের আসামি করা হয়েছে। ই-কমার্স নীতিমালার তোয়াক্কা না করে পরিচালিত এই অবৈধ বাণিজ্যে দারাজের এমন আইনি ও নৈতিক দায়িত্বহীনতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
Leave a Reply