
মনোলোক:আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবর শোনার পর তেহরানের এক নারী কেক বানিয়েছিলেন প্রতিবেশীদের মাঝে বিলি করার জন্য। সরকারি বিরোধী হওয়ায় তার কাছে মনে হয়েছিল অবশেষে তাদের মুক্তি মিলছে এবং ইরানে সম্ভবত রেজিম চেঞ্জ হচ্ছে।
কিন্তু এরপর যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েল মিলে ইরান জুড়ে যে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে এবং ইরানের সামরিক বাহিনী যে জবাব দিয়েছে তাতে তাদের সেই কথিত মুক্তির আনন্দ হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে।
শুধু সেই নারী নন, বরং ইরানের হাজার হাজার সরকার বিরোধী এখন যু*দ্ধের বিপক্ষে। তারা আশা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র হয়তো সীমিত আকারে সুর্নির্দিষ্ট কিছু হামলা চালিয়ে ইরানের রেজিম পরিবর্তন করতে সক্ষম হবে। আবার কেউ কেউ আশা করেছিল ট্রাম্প হয়তো ভেনেজুয়েলার মতো করে রক্তপাতহীন এক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে তাদের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এনে দিবেন।
কিন্তু সেসব কিছু ঘটেনি। বরং ইরানে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। ১ হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক মারা গেছেন এবং ৮ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। হামলার হাত থেকে রক্ষা পায়নি স্কুল, পানির প্লান্ট, তেহরানের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড বাজার এবং গোলেস্তান প্রাসাদ।
এখন ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইরানের ম্যাপ হয়তো আগের মতো থাকবে না। এসব শোনার পর দেশ ও বিদেশে থাকা ইরানের সরকার বিরোধীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। তারা মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার পর পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। একদিকে যুদ্ধের কারণে তাদের দেশ ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে এক খামেনির পর আরেক খামেনি এসেছে, যার বয়স তার পিতার চেয়ে ৩০ বছর কম।
এদিকে সরকার সমর্থকরা দেশের ভেতরে সরকারি বিরোধীদের কোনো স্পেসই দিচ্ছে না। তারা রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে বড় বড় জমায়েত করে সরকারের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে। তাদের এই আনুগত্যের মূল নিহিত রয়েছে শিয়া ইসলামের ভেতরে। এ কারণে তারা বলছেন, তাদের নেতা মারা গেলেও সিস্টেম কলাপস করবে না। কারণ নেতার মৃত্যু হলেও শিয়া ইসলামের মৃত্যু হচ্ছে না।
বর্তমান রেজিমের পতন হলে রেজা পাহলভি যে ক্ষমতায় আরোহন করার স্বপ্ন দেখছেন সেটাও সম্ভব হবে না। কারণ তিনি দেশ বিক্রি করে হলেও ক্ষমতায় যেতে চান, ফলে তার প্রতি সাধারণ মানুষের তেমন সমর্থন নাই। যা ছিল সেটাও কমে যাচ্ছে।
বরং দেখা যাচ্ছে চলমান যুদ্ধে ভয়াবহ হামলা করে ইরানের সাধারণ নাগরিকদের আরো সরকার ঘনিষ্ঠ করে তুলেছে। এমনকি অনেক তীব্র সরকার বিরোধী ইরানি নাগরিকও এখন বলছেন যে এই যুদ্ধ ইরানের ইসলামিক রিপাবলিককে আরও প্রাণবন্ত করেছে। তারা এখন ভাবছেন রেজিমের ভেতর থেকেই কোনো রিফর্মারের উত্থান হলেই ভালো। কারণ তারাও দিনশেষে ইরানের শান্তি আর সমৃদ্ধি চান।
আবার কেউ কেউ বলছেন এই যুদ্ধের মাধ্যমে যদি রেজিমের পরিবর্তনও হয়, তাহলে অবশিষ্ট কী থাকবে? একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশ। অর্থাৎ সবমিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের সম্মিলিত হামলা ইরানে রেজিমের পতনের পরিবর্তে সরকার বিরোধীদেরই মত পরিবর্তনে বাধ্য করছে।
Leave a Reply