
মনোলোক ডেস্ক | ১১ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার |
“বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ। বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে মার্কিন অভিবাসন নীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপকে ঘিরে তাঁর প্রশাসনের নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তই আমেরিকার নিরাপত্তা ও নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী দর্শক, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় ও অতীত কার্যক্রম কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, জঙ্গি কার্যকলাপ বা নাশকতার সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি যাতে দেশের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে, সে কারণেই এই কড়াকড়ি।
ট্রাম্প বলেন, বিদেশি অতিথিদের থাকা, খাওয়া, যাতায়াতসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। তবে একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এবারের বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে।
“তবে এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে সমালোচনাও বাড়ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, নিরাপত্তার অজুহাতে অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, যা দর্শক, কর্মকর্তা এমনকি খেলোয়াড়দের জন্যও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।
এদিকে ইরানের জাতীয় দলের ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে নেওয়া হয়েছে। ইরানের অভিযোগ, দলের কয়েকজন কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা দেয়নি।
এ ছাড়া সোমালিয়ার রেফারি ওমার আর্টানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগের সন্দেহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্বকাপকে ঘিরে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিয়ে বিতর্ক যতই বাড়ুক, ট্রাম্প প্রশাসন নিজেদের অবস্থানে অনড়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য— “আমরা যা করছি, সবই আমেরিকার নিরাপত্তা ও জনগণের স্বার্থে।”
মাঠের উত্তেজনার পাশাপাশি এবারের বিশ্বকাপ তাই নিরাপত্তা, অভিবাসন নীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিতর্কের নতুন এক অধ্যায়ও তৈরি করেছে।
Leave a Reply