
মনোলোক / পঞ্চগড় / ১১ জুন ২০২৬ :
পঞ্চগড়ে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান আদর্শ ক্লিনিকে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে এক প্রসূতি মা ও দুই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় institution-টির চিকিৎসাসেবার মান, নিরাপত্তা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাগুলো বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য বিভাগ। বুধবার (১০ জুন) রাত ১১টার দিকে পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান ক্লিনিকটি পরিদর্শন করে অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ও লেবার রুম সিলগালা করেন। একই সঙ্গে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ক্লিনিকে সকল ধরনের অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

স্বাস্থ্য বিভাগের এই সিলগালা প্রক্রিয়ার একটি চিত্র সংযুক্ত ছবিতে এ দেখা যাচ্ছে।
জানা গেছে, গত ৭ জুন রাতে আদর্শ ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য ভর্তি করা হলেও চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে দুই নার্সের মাধ্যমে নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করা হয়। সে সময় মনিরুল ইসলামের স্ত্রী মিতু আক্তারের নবজাতকের মৃত্যু হয়। এর দুই দিন পর, ১০ জুন সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের নূরনবীর স্ত্রী পাপড়ি আক্তারের নরমাল ডেলিভারির সময় প্রথমে নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। পরে প্রসূতি পাপড়ি আক্তারও মারা যান।
পরপর এসব মৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের স্বজনরা চিকিৎসায় অবহেলা, সার্বক্ষণিক চিকিৎসক না থাকা এবং ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলেছেন। ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আদর্শ ক্লিনিকের হালনাগাদ লাইসেন্স নেই। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য বিভাগ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্লিনিকটির অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
আসাদুজ্জামান আপেল / পঞ্চগড়
Leave a Reply