
মনোলোক | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে পাঁচ দিনের নিউইয়র্ক সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, নিউইয়র্কে চার কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ১১টি ছিল বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং আটটি ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ-সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি। বাকি কর্মসূচিগুলোর মধ্যে ছিল বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক ও অনুষ্ঠান।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে একইভাবে জানানো হয়েছে, সফরকালে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক শান্তির বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে তাঁর প্রথম ভাষণ। ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় ভোরে তিনি বাংলায় ভাষণ দেন। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম বক্তব্য।
ভাষণে বাংলাদেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তরুণ ও নারীদের উন্নয়নসহ বিভিন্ন নীতি ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, ফিলিস্তিন, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান হিসেবে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মাহ্দী আমিন জানান, বিভিন্ন বৈঠক ও অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা সংকটসহ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থনের আশ্বাস পাওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তি, মানবিক সংকট ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী দলের আকার নিয়েও আলোচনা হয়েছে। মাহ্দী আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, সফরসঙ্গী দলে সদস্য ছিলেন ৩৫ জন। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে নিউইয়র্কে যান এবং সফরটিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের চার দিনকে মূলত ব্যস্ত দ্বিপক্ষীয়, বহুপক্ষীয় ও কূটনৈতিক কর্মসূচির জন্য ব্যবহার করা হয়।
নিউইয়র্ক থেকে ফেরার সময় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা এমিরেটসের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
মাহ্দী আমিনের বক্তব্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সফরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ এবং জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সফরে উপস্থাপিত নীতি, কর্মসূচি ও পরিকল্পনাগুলো এখন বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়াই সরকারের পরবর্তী কাজ।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলীও) সফরটিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রীর ছোট সফরসঙ্গী দল এবং বাণিজ্যিক ফ্লাইট ব্যবহারের বিষয়টি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের একটি দিক তুলে ধরে।
সব মিলিয়ে, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে।
মনোলোক | সংবাদ ও সত্যের সন্ধানে
www.monolok.net
Leave a Reply