
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, সুমাইয়া খাতুন (২২) নামের ওই তরুণীকে একটি বন্ধ ঘরে নিয়ে ডালিম গাছের মোটা ডাল দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নর্দ গ্রামের মো. ওহিদ আলীর মেয়ে সুমাইয়া শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। পরিবারের ধারণা ছিল, তার ওপর ‘জ্বিনের আছড়’ পড়েছে। এ কারণে গত শনিবার দুপুরে তাকে যশোরের শ্যামনগর মাঠপাড়ায় কথিত আয়না কবিরাজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিবারের অভিযোগ, আয়না কবিরাজ চিকিৎসার কথা বলে সুমাইয়াকে একটি ঘরে নিয়ে স্বজনদের বাইরে বের করে দেন। এরপর ঘরের ভেতরে তাকে ডালিম গাছের ডাল দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জের নর্দ গ্রামে নিয়ে যান।
সুমাইয়ার মা রোশনা বেগম অভিযোগ করেন, চিকিৎসার আশায় মেয়েকে কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলেও সেখানে তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তিনি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে বুধবার বিকেলে গণমাধ্যমকর্মীরা আয়না কবিরাজের বাড়িতে গেলে তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য না দিয়ে বলেন, তিনি ‘বিপদে ও ঝামেলায়’ আছেন এবং পরে কথা বলবেন। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কথিত আয়না কবিরাজ দীর্ঘদিন ধরে ঝাড়ফুঁক, জ্বিন তাড়ানো ও বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের নামে মানুষের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে আসছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা এ ধরনের ঝাড়ফুঁকের নামে শারীরিক নির্যাতন বন্ধে প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপ এবং অভিযোগের তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মনোলোক | www.monolok.net
Leave a Reply