
ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্যাপ্টেন স্মিতের সঙ্গে ২ অক্টোবর ভিডিও কলে কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মোদি তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং সংকটের মুহূর্তে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া ও যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য তার প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, কথোপকথনটি ছিল আবেগঘন; মোদি ক্যাপ্টেনের স্ত্রী ও সন্তানদের সম্পর্কেও খোঁজ নেন এবং দ্রুত সুস্থতার জন্য শুভকামনা জানান।
ঘটনাটি ঘটে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ফ্লাইট FZ1073 দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। উড়োজাহাজটি ছিল একটি Boeing 737 MAX 8 এবং এতে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
ফ্লাইট চলাকালে ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সহ-পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিতকে ছুরিকাঘাত করেন এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিমানটি খুব দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, অল্প সময়ের মধ্যে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায়ও ক্যাপ্টেন স্মিত ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। এরপর যাত্রী ও ক্রুরা ককপিটে প্রবেশ করে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেন। বিমানে থাকা অন্য পাইলটরাও পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন। শেষ পর্যন্ত ফ্লাইটটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। বিমানের সব যাত্রী নিরাপদে বেরিয়ে আসেন।

মাঝ আকাশে প্রাণঘাতী হামলা, আহত হয়েও ১৭৪ যাত্রীর জীবন বাঁচালেন পাইলট স্মিত হাসপাতালের শয্যায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে আবেগঘন কথোপকথন
২ অক্টোবর প্রকাশিত ভিডিও কথোপকথনে ক্যাপ্টেন স্মিত হাসপাতালের বিছানা থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ঘটনার বিবরণ দেন। তিনি জানান, নিজের জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি বিমানে থাকা অন্য মানুষদের জীবনও বাঁচাতে হবে—এই চিন্তাই তাকে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে শক্তি দেয়।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রকাশিত বিবরণে বলা হয়, মোদি তার সাহস, ধৈর্য এবং এক মুহূর্তের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতার প্রশংসা করেন। মোদি বলেন, গুরুতর আহত হওয়ার পরও স্মিত নিজের চেয়ে যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
মোদি আরও জানান, পুরো ভারত তার দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছে। তিনি স্মিতের স্ত্রী সোনাল ও তার পরিবারের ধৈর্যেরও প্রশংসা করেন এবং তার সন্তান ববি ও জিওয়া সম্পর্কে খোঁজ নেন।
কথোপকথনের আরেকটি আবেগঘন অংশে ক্যাপ্টেন স্মিত জানান, ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি হনুমান চালিসা পাঠ করছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবরণেও বলা হয়েছে, স্মিত প্রতিদিন তার দুই বছরের ছেলে ববির সঙ্গে হনুমান চালিসা পাঠ করেন বলে জানান।
এই কথোপকথনের সময় স্মিত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। প্রধানমন্ত্রীও তাকে আশ্বস্ত করেন যে, তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং ভবিষ্যতে তাদের সরাসরি দেখা হবে।
ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর একজন ভারতীয় বাণিজ্যিক পাইলট। তিনি এর আগে SpiceJet-এ প্রায় ১১ বছর কাজ করেছেন এবং ২০২২ সালে flydubai-তে যোগ দেন। প্রতিবেদনে তার দীর্ঘ বিমান চালনার অভিজ্ঞতা এবং প্রায় ৯,৭৫০ ঘণ্টা উড্ডয়ন অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে সৌদি আরবের তাবুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নেওয়া হয়। সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনাটিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে সম্ভাব্য বিমান ছিনতাই বা বিমান বিধ্বস্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা সহ-পাইলটের মানসিক/আদর্শিক উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত এখনো চলছে। তাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১ অক্টোবরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্মিতের সাহসিকতার প্রশংসা করেছিলেন। পরদিন সরাসরি ভিডিও কলে তার সঙ্গে কথা বলেন। মোদির সঙ্গে এই কথোপকথনের ভিডিও প্রকাশের পর ঘটনাটি আবারও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।
মনোলোকের পর্যবেক্ষণ:
মাঝ আকাশে কয়েক মুহূর্তের ওই সংকটে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সিদ্ধান্ত, ককপিটের দরজা খোলার উদ্যোগ এবং যাত্রীদের সহায়তা নেওয়ার ঘটনা ফ্লাইটটির নিরাপদ পরিণতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ ও হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দাবিগুলোকে তদন্তাধীন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সূত্র: ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, Reuters, Financial Times, Indian Express এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। (PM India)
Leave a Reply