
১৩ জুন, ২০২৬
মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে বসেছিল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনী আসর। ফুটবল উন্মাদনার সেই মাহেন্দ্রক্ষণে নাইজেরিয়ান পপ তারকা বার্না বয়ের সাথে সুর মেলালেন কলম্বিয়ান পপ কুইন শাকিরা। বিশ্বকাপের অফিশিয়াল অ্যান্থেম ‘দাই দাই’ (Dai Dai)-এর ছন্দে যখন পুরো স্টেডিয়াম কাঁপছিল, ঠিক তখনই মঞ্চের আড়ালে দানা বাঁধতে শুরু করে এক অদ্ভুত রহস্য।
পারফরম্যান্স শেষ হতে না হতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের মনে এখন একটাই প্রশ্ন— মঞ্চে যিনি পারফর্ম করলেন, তিনি কি আসলেই শাকিরা, নাকি তাঁর কোনো ‘বডি ডাবল’ (নকল রূপ)?
মঞ্চে শাকিরার উপস্থিতি ও চেনা অবয়বের আকস্মিক পরিবর্তনই এই জল্পনার মূল কারণ। মূলত তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে নেটিজেনরা এই ‘বডি ডাবল’ তত্ত্ব দাঁড় করিয়েছেন:
লুক ও গেটআপের বদল: চেনা সোনালি চুল ছেড়ে শাকিরা এবার হাজির হন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপে— হালকা স্ট্রবেরি-লাল চুল এবং চোখে ছিল বিশাল এক কালো সানগ্লাস। দূর থেকে তাঁর মুখমণ্ডল স্পষ্টভাবে চেনা যাচ্ছিল না।
লাইভ সম্প্রচার রহস্য: যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার গণমাধ্যম ফক্স টিভি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করেনি, যদিও ‘টেলিমুন্ডো’ চ্যানেলে এটি দেখানো হয়। কেন ফক্স এই লাইভ সম্প্রচার এড়িয়ে গেল— তা নিয়েও একশ্রেণির দর্শক রহস্যের গন্ধ পাচ্ছেন।
সামাজিক মাধ্যমে শাকিরা-ভক্তরা এখন স্পষ্ট দুটি দলে বিভক্ত। একদল যখন এটিকে ‘নকল শাকিরা’ বলে ট্রল করছেন, অন্যদল তখন প্রমাণ হাজির করছেন পপ কুইনের অকৃত্রিমতার।
পারফরম্যান্সের পর মাঠের একটি ভিডিও এর মধ্যেই ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছে। সেখানে দেখা যায়, নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত মাঠ ছাড়ার নির্দেশনা দিলেও তা উপেক্ষা করে নিজের ভাই আন্তোনিও মেবারাকের সঙ্গে নাচতে শুরু করেন শাকিরা। প্রিয় তারকার এই চিরচেনা স্বতঃস্ফূর্ত রূপ দেখে একাংশের দাবি— “এটাই আসল ও খাঁটি শাকিরা, যিনি যেকোনো নিয়ম ভেঙে নিজের মতো নাচতে ভালোবাসেন।”
“এটি কি সত্যিই শাকিরা? মনে হচ্ছে আয়োজকরা আমাদের চোখ ফাঁকি দিতে কোনো ডাবল ব্যবহার করেছে।” — এক্স (টুইটার)-এ এক ভক্তের মন্তব্য।
পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঝড় (বিশেষ করে সাবেক ফুটবলার জেরার্ড পিকের সঙ্গে আলোচিত বিচ্ছেদ) সামলে এটিই ছিল আন্তর্জাতিক বড় মঞ্চে শাকিরার অন্যতম বড় প্রত্যাবর্তন। গানের বাণীতেও ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা। তবে বডি ডাবল ব্যবহারের এই গুরুতর অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট বা দাপ্তরিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফিফা কর্তৃপক্ষ কিংবা শাকিরার জনসংযোগ দল— কোনো পক্ষই এই বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে শাকিরার এই নতুন ‘স্ট্রবেরি-লাল’ অবয়ব এবং ভিন্ন ধাঁচের ফ্যাশনই হয়তো সাধারণ দর্শকদের মাঝে এই বিভ্রান্তির জন্ম দিয়েছে। তবে কারণ যা-ই হোক, ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম কিক-অফের আগেই মাঠের বাইরের এই ‘শাকিরা রহস্য’ বিনোদন দুনিয়াকে দারুণভাবে জমিয়ে তুলেছে।
Leave a Reply