
আন্তর্জাতিক:মনোলোক| শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬
তেহরান/ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, মার্কিন বাহিনী ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের (Kharg Island) সমস্ত সামরিক লক্ষ্যবস্তু ‘চুরমার’ (Obliterated) করে দিয়েছে। ইরানের এই দ্বীপটিকে দেশটির অর্থনীতির ‘মুকুট রত্ন’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ট্রাম্পের সতর্কবার্তা ও অভিযান
গতকাল শুক্রবার রাতে এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প জানান, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বোমা হামলা চালিয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, মানবিক কারণে এবং বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তিনি এই মুহূর্তে দ্বীপটির ‘তেল অবকাঠামো’ (Oil Infrastructure) ধ্বংস না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন:
”ইরান বা অন্য কেউ যদি হরমোজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তবে আমি তাৎক্ষণিকভাবে তেল স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেব।”
ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ
ইরানি গণমাধ্যমগুলো খার্গ দ্বীপে অন্তত ১৫টি শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিক তথ্যমতে, হামলায় দ্বীপের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি নৌঘাঁটি এবং বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের মূল তেল টার্মিনাল বা পাইপলাইনগুলোর কোনো ক্ষতি হয়নি।
উত্তেজনার কেন্দ্রে ‘খার্গ দ্বীপ’
ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই খার্গ দ্বীপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপটি আক্রান্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
পাল্টা হুমকির মুখে বিশ্ব
মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র তাদের তেল অবকাঠামোতে সরাসরি আঘাত করে, তবে এই অঞ্চলে মার্কিন ঘনিষ্ঠ দেশগুলোর তেল ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকেও ‘ছাইয়ের স্তূপে’ পরিণত করা হবে।
পরবর্তী পরিস্থিতি:
মার্কিন নৌবাহিনী খুব শীঘ্রই হরমোজ প্রণালীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই পদক্ষেপ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
Leave a Reply