জ্যামের বয়াম থেকে ভাঙল ১২ বছরের প্রেম! শাকিরা-পিকের রূপকথার করুণ পরিণতি
মনোলোক আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষকে তাঁর গানের তালে নাচিয়েছেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা শাকিরা। মঞ্চে তাঁর আত্মবিশ্বাস, সাফল্য আর জনপ্রিয়তা দেখে মনে হতে পারে জীবনের সব লড়াইয়েই তিনি জয়ী। কিন্তু ভালোবাসার পরীক্ষায় তিনিও পেয়েছেন গভীর আঘাত, বিশ্বাসভঙ্গের তীব্র যন্ত্রণা।
এক সাক্ষাৎকারে শাকিরা বলেছিলেন, “আমি খুব পরিবারকেন্দ্রিক মানুষ ছিলাম। আমার সাজানো জীবনটা এক মুহূর্তে ভেঙে যায়। এখন সম্পর্কের ওপর বিশ্বাস রাখা আমার জন্য কঠিন। তবে আমার দুই ছেলেই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।”
২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ। শাকিরার গাওয়া বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘ওয়াকা ওয়াকা’ তখন গোটা বিশ্বের হৃদয় জয় করেছে। সেই গানকে ঘিরেই স্পেনের তারকা ফুটবলার জেরার্ড পিকের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। বয়সের পার্থক্য ছিল ১০ বছর, কিন্তু ভালোবাসার সম্পর্কে তা কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
এরপর প্রায় এক যুগ ধরে তাঁরা ছিলেন বিশ্বের অন্যতম আলোচিত তারকা জুটি। তাঁদের ঘরে জন্ম নেয় দুই সন্তান—মিলান ও সাশা। বাইরে থেকে তাঁদের পরিবারকে দেখলে মনে হতো যেন এক নিখুঁত সুখের গল্প।
কিন্তু সেই গল্পের ভেতরেই লুকিয়ে ছিল ভাঙনের বীজ। বহুল আলোচিত এক ঘটনার মতে, দীর্ঘ সফর শেষে বাড়ি ফিরে শাকিরা ফ্রিজে তাঁর প্রিয় স্ট্রবেরি জ্যামের বয়ামের অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ করেন।
কারণ তাঁর জানা মতে, পিকে বা সন্তানদের কেউই সেই জ্যাম খেতেন না। পরে এই ঘটনা নিয়ে বিশ্বমাধ্যমে নানা আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে এবং এটি তাঁদের বিচ্ছেদের প্রতীকী একটি গল্পে পরিণত হয়।
শেষ পর্যন্ত পিকের অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার খবর সামনে আসে। বহু চেষ্টা ও ক্ষমার পরও সম্পর্ক আর টিকিয়ে রাখতে পারেননি শাকিরা। ২০২২ সালে ১২ বছরের দীর্ঘ সম্পর্কের ইতি টানেন এই তারকা যুগল।
তবে ভেঙে পড়েননি শাকিরা। ব্যক্তিগত বেদনা ও বিশ্বাসঘাতকতার অনুভূতিকে তিনি পরিণত করেন সৃষ্টিশীল শক্তিতে। তাঁর প্রকাশিত গান “BZRP Music Sessions #53”-এ সাবেক সঙ্গী ও তাঁর নতুন সম্পর্ককে ইঙ্গিত করে করা মন্তব্য বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। গানটি জনপ্রিয়তার রেকর্ড গড়ে এবং শাকিরার জীবনের নতুন অধ্যায়ের প্রতীক হয়ে ওঠে।
ভালোবাসার গল্প সবসময় রূপকথার মতো শেষ হয় না। কখনও কখনও সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকার জীবনেও নেমে আসে অন্ধকার। তবে হার মানার বদলে সেই অন্ধকার থেকেই নতুন আলো খুঁজে নেওয়ার নামই যেন শাকিরা।
Leave a Reply