
বিনোদন ডেস্ক, মনোলোক: রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে বহুতল ভবন থেকে নিচে পড়ে রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে ছোট ও বড় পর্দার পরিচিত মুখ অভিনেত্রী আসমা ঝিলিকের। গত শুক্রবারের এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ ওঠার পর তাঁর স্বামী, চলচ্চিত্র প্রযোজক সাইফুল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে শোবিজ মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।
কী ঘটেছিল: গত শুক্রবার দুপুরে ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান ঝিলিক ও তাঁর স্বামী সাইফুল্লাহ। সেখানে ৮ তলার বারান্দায় দুজনের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়। এর পরপরই ওপর থেকে নিচে পড়ে ঝিলিকের মৃত্যু হয়।
পরিবারের অভিযোগ: ঝিলিকের পরিবারের দাবি, ঝগড়ার একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী সাইফুল্লাহই তাকে ৮ তলা থেকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে হত্যা করেছেন।
স্বামীর দাবি: গ্রেপ্তারকৃত স্বামী সাইফুল্লাহর দাবি, ঝিলিক নিজেই অসাবধানতাবশত বারান্দা থেকে নিচে পড়ে গেছেন।
বৈবাহিক জীবনের নির্মম সত্য: ঝিলিকের অকাল প্রয়াণে শোক প্রকাশ করে চিত্রনায়ক অনিক রহমান অভি জানিয়েছেন, প্রেমের সম্পর্কের জেরে বিয়ে করলেও বিয়ের পর ঝিলিক জানতে পারেন তাঁর স্বামীর আগের সংসার ও সন্তান রয়েছে। শুধু তাই নয়, বিয়ের পর ঝিলিকের জীবন প্রায় বন্দী হয়ে পড়েছিল। তাঁর ফেসবুক ও ফোন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল এবং লুকিয়ে ভাইয়ের ফোনে কল করে তিনি প্রায়ই অঝোরে কাঁদতেন।
ক্যারিয়ার থেকে নির্বাসন: ঢাকাই চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের সাথে ‘রংবাজ’ সিনেমায় অভিনয় করে নজর কেড়েছিলেন সম্ভাবনাময়ী এই অভিনেত্রী। তবে বিয়ের পর স্বামীর অনাগ্রহ ও সংসার টিকিয়ে রাখার তাগিদে মিডিয়া জগত থেকে পুরোপুরি আড়ালে চলে যান তিনি।
ঘটনার পরপরই লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত স্বামী সাইফুল্লাহকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল সংবাদমাধ্যমকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। তবে প্রাথমিকভাবে হত্যার কোনো সরাসরি প্রমাণ মেলেনি। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
Leave a Reply