
মনোলোক : ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে এক বিশাল উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ১২টা থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের চান্দেরহাটি, আলমপাড়া, নোয়াবাড়ি ও মীরহাটি এলাকায় এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে সুহিলপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে আনুমানিক ২০০ মিটার অবৈধ গ্যাস পাইপলাইন সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করা হয়। এর ফলে প্রায় ৭০টি আবাসিক গ্রাহকের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এছাড়া পুনঃসংযোগের ঝুঁকি এড়াতে এবং লাইনগুলো চিরতরে অকার্যকর করতে ২ হাজার ৫০০ মিটার পাইপলাইনে সিমেন্ট গ্রাউটিং (সিমেন্টের মিশ্রণ পুশ করা) করে দেওয়া হয়েছে। অভিযানে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহারের অপরাধে কয়েকজন গ্রাহককে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নেতৃত্ব দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রিন্স সরকার। অভিযান পরিচালনাকালে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (প্রকৌশল) মো. শফিকুল হকসহ অন্যান্য কারিগরি কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এক নজরে অভিযানের সফলতা:
উচ্ছেদকৃত পাইপলাইন: ২০০ মিটার
বিচ্ছিন্নকৃত সংযোগ: ৭০টি আবাসিক গ্যাস সংযোগ
সিমেন্ট গ্রাউটিং: ২,৫০০ মিটার পাইপলাইন চিরতরে অকার্যকর
আর্থিক জরিমানা: অবৈধ ব্যবহারকারীদের মোট ১৫,০০০ টাকা জরিমানা
অভিযানের স্থান: সুহিলপুর ইউনিয়নের চান্দেরহাটি, আলমপাড়া, নোয়াবাড়ি ও মীরহাটি এলাকা।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নতুন আবাসিক গ্যাস সংযোগ প্রদান সরকারিভাবে বন্ধ রয়েছে। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে একটি সুসংগঠিত অসাধু চক্র জেলা শহরসহ সদর ও সরাইল উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রাম ও মহল্লায় অবৈধভাবে বিপজ্জনক উপায়ে আবাসিক গ্যাস সংযোগ দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এসব অবৈধ লাইনের কারণে সরকার যেমন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগের ফলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের মতো জননিরাপত্তা হুমকি তৈরি হচ্ছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে নিয়মিত এই অভিযান চালানো হচ্ছে।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক (প্রকৌশল) শফিকুল হক বলেন, “অবৈধ গ্যাস লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কিছুদিনের মধ্যেই অসাধু চক্রগুলো আবার নতুন করে সংযোগ দিয়ে থাকে। ফলে সম্পূর্ণভাবে অবৈধ সংযোগ বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরি ও অবৈধ সংযোগ রোধে বাখরাবাদের এই ধারাবাহিক কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
গ্যাস চুরি রোধে এ ধরনের আকস্মিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও আইনি ব্যবস্থা সামনেও চলমান থাকবে বলে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
Leave a Reply