মনোলোক প্রতিবেদক | নরসিংদী | ১৭ জুন ২০২৬ :
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চল নিলক্ষা ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে অনিক (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোর থেকে নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় স্থানীয় নাজিম উদ্দিন গ্রুপ এবং আলাল মুন্সি গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত অনিক দড়িগাঁ পূর্বপাড়া এলাকার ওসমান মেম্বারের ছেলে। তিনি নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সমর্থক ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, পূর্ব বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ছাড়া ছিলেন আলাল মুন্সি ও জবা মেম্বারের অনুসারীরা। মঙ্গলবার ভোরে তারা স্পিডবোটে করে অস্ত্রধারী লোকজন নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করলে নাজিম উদ্দিনের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ভোর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ কয়েক দফায় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলতে থাকে।
সংঘর্ষ চলাকালে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন অনিক। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় বকুল মিয়ার ছেলে রাজু (২৮) এবং অহিদ মিয়ার ছেলে মোস্তফা (৬০) গুলিবিদ্ধসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, “এখন এলাকায় গোলাগুলি বন্ধ রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, “পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, একই বিরোধকে কেন্দ্র করে গত বছরের ৮ ডিসেম্বরও নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের সংঘর্ষে কুয়েতপ্রবাসী মামুন মিয়া (২৫) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন এবং অন্তত ১০ জন আহত হন। স্থানীয়দের দাবি, সেই ঘটনার ধারাবাহিকতায় প্রতিপক্ষের পুনরায় এলাকায় প্রবেশকে কেন্দ্র করেই মঙ্গলবারের এই প্রাণঘাতী সংঘর্ষের সূত্রপাত।
সংবাদ: সাদ্দাম উদ্দিন রাজ, নরসিংদী
Leave a Reply