পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধরন্তী গ্রামের খাদিম মিয়া, আলাল ও আশিকের পাটি কেনাবেচা সংক্রান্ত প্রায় এক লাখ টাকা পাওনা ছিল সূর্যকান্দি গ্রামের মোশারফ মিয়া। এ নিয়ে বিরোধের জেরে ২৮ জুন দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
প্রথম দিনের সংঘর্ষে ধরন্তী গ্রামের শামসুল হকের ছেলে খাদিম মিয়া (৪৫) নিহত হন। এছাড়া অন্তত ৫০ জন আহত হন।
পরদিন (২৯জুন) খাদিম মিয়ার দাফন শেষে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই পক্ষ আবারও দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দ্বিতীয় দিনের সংঘর্ষেও অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। সংঘর্ষের জেরে বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়।
তৃতীয় দিনও (৩০ জুন) টেটা, বল্লম, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে উভয় পক্ষ কয়েক দফা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে টেটাবিদ্ধসহ আরও অর্ধশতাধিক আহত হন। তিন দিনের সংঘর্ষে আহতের সংখ্যা প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জনে পৌঁছেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সংঘর্ষের সুযোগে কয়েকটি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের দোকানের মালামাল লুট হয়ে গেছে। অনেকেই সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছেন।
এ বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল কাদের ভূঁইয়া জানান, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। ১ম দিন তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।
এদিকে সংঘর্ষ বন্ধে স্থানীয় নেতা জেলা বি এন পির সদস্য ও উপজেলা বি এন পির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাস্টারের নেতৃত্বে উপজেলা জামাতের সাবেক আমির মাওলানা কুতুবউদ্দিন ও উপজেলা বি এন পি, যুবদল,ছাত্রদল, জিয়া পরিষদ, ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের আপ্রাণ চেষ্টায় সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আসে ও উভয় পক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
ঝগড়াটি থামাতে আরোও ভুমিকা রাখেন,উপজেলা বি এন পির সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল মাহমুদ আলী, যুবদলের সাবেক যুগ্ন আহবায়ক নুর আলম মিয়া,বিএনপি নেতা সেলিম খান, জিয়া পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক আব্বাসউদ্দীন, জিয়া পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক কামাল খন্দকার, আব্দুল বারিক, জামাল লস্কর, জাবেদ, সাজিন,জুনায়েদ, জিল্লু প্রমূখ।
সংবাদ : আব্বাসউদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
Leave a Reply