
জেলার সচেতন নাগরিকদের দাবি, দখল-দূষণের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে ঝিনাইদহের ১২টি নদ-নদীসহ অসংখ্য খাল, বিল, বাঁওড় ও খাস জলাশয়। এসব জলাশয় রক্ষা, বিপ্লবী বাঘা যতীনের নামে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ইলা মিত্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, জেলা সদর ও উপজেলাগুলোকে রেলপথের আওতায় আনা, কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান কেন্দ্র স্থাপন এবং বাঁওড়সহ জলমহাল ইজারা ব্যবস্থা বাতিল করে জেলে, মজুর ও ভূমিহীন মানুষের সামাজিক মালিকানা নিশ্চিত করার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, উর্বর কৃষিজমি ও দুর্যোগমুক্ত পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও উন্নয়ন সূচকে পিছিয়ে রয়েছে ঝিনাইদহ। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাবে জেলার অর্থনৈতিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

মেডিকেল কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও রেললাইনসহ ৭ দফা দাবিতে সোচ্চার ঝিনাইদহবাসী
বিশেষ করে জেলায় মেডিকেল কলেজ না থাকায় জটিল রোগীদের কুষ্টিয়া, যশোর কিংবা ঢাকায় নিতে গিয়ে অনেক সময় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। একইভাবে রেললাইন না থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহনের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা গেছে, ২০১১ সাল থেকে সাংবাদিক সুজন বিপ্লবের নেতৃত্বে রেললাইন, মেডিকেল কলেজ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে ধারাবাহিকভাবে মানববন্ধন, বিক্ষোভ, সমাবেশ এবং স্মারকলিপি কর্মসূচি পালন করে আসছে বিভিন্ন সংগঠন। ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন, ক্ষেতমজুর সমিতি, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, সিপিবিসহ নানা সংগঠন এই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী স্পর্শ বিশ্বাস বলেন, ঝিনাইদহে রেললাইন চালু হলে শুধু জেলার মানুষই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থীও উপকৃত হবেন। আবাসন সংকটের কারণে ঝিনাইদহ শহরে বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের জন্য শাটল ট্রেন চালুর দাবিও দীর্ঘদিনের।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন জাতীয় রাজনীতিতে ঝিনাইদহের উন্নয়ন-সংক্রান্ত এসব দাবি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে। দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের আবেগের সঙ্গে বিষয়গুলো জড়িয়ে থাকায় এগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সময়ের দাবি।
জেলার বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি নয়—এবার বাস্তব উন্নয়ন দেখতে চান তারা। উন্নয়নের ন্যায্য অংশীদার হিসেবে ঝিনাইদহের দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
Leave a Reply