
মনোলোক | নওগাঁ জেলা: নওগাঁর মহাদেবপুরে লোকমান আলী মন্ডল ও তার স্ত্রী দেলোয়ারা বেগমের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কীটনাশক পানে তাদের মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা এবং তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুসন্ধান তাদের ছেলে মুক্তার হোসেনের দিকে ইঙ্গিত করছে।
গত ১৩ জুলাই সোমবার ভোরে মহাদেবপুর উপজেলার পাহাড়পুর গ্রাম থেকে এই দম্পতির মৃতদেহ খাটের উপর থেকে উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে মহাদেবপুর থানার পুলিশ লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এই সংবাদটির সাথে পুলিশ তদন্তের একটি বাস্তব চিত্রও রয়েছে , যেখানে তদন্তের পর বা ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে একটি পুলিশ বাহনে লাশ বহন করতে দেখা যাচ্ছে।
ঘটনার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং সন্দেহ বিরাজ করছে। প্রতিবেশীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই দম্পতির ছেলে মুক্তার হোসেন, যিনি পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিয়ন, মাদক ও অনলাইন জুয়ায় মারাত্মকভাবে আসক্ত। এলাকাবাসী ধারণা করছেন, সম্ভবত টাকার জন্য বাবা-মায়ের সাথে মুক্তারের কলহ সৃষ্টি হয়েছিল। স্থানীয়রা দাবি করছেন, মুক্তার তার বাবা-মায়ের কাছে টাকা চেয়েছিলেন, যা তারা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয়, মুক্তার হয়তো খাবারের সাথে কীটনাশক মিশিয়ে তাদের হত্যার পরিকল্পনা করেন।
এই সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়েছে কারণ স্থানীয়রা জানান, সপ্তাহ খানেক আগেও মুক্তার খাবারের সাথে কীটনাশক মিশিয়ে তার বাবা-মাকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন। সেবার খাবারের একটি অংশ হাঁস খেয়ে মারা যাওয়ায় তারা বুঝতে পেরে খাবারগুলো ফেলে দিয়েছিলেন। তবে মুক্তার হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি রাতে বাথরুমে গিয়ে ফিরে দরজা খোলা দেখে ভিতরে ঢুকে বাবা-মায়ের লাশ দেখতে পান।
মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ওমর ফারুক জানান, প্রাথমিকভাবে বিষাক্ত কিছুর প্রভাবে মৃত্যুর ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের পরেই সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ জেলকদ হোসেনও কীটনাশক পানের বা প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান। পুরো বিষয়টি এখন পুলিশের নিবিড় তদন্তের অধীনে রয়েছে।
সংবাদ # গৌতম কুমার মহন্ত | নওগাঁ জেলা
Leave a Reply