
মনোলোক | ১০ জুলাই, ২০২৬ : সারাদেশে বর্ষার তীব্রতার সাথে সাথে বাড়ছে বজ্রপাতের তাণ্ডব। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের পৃথক দুটি জেলায় বজ্রপাতে এক স্কুলশিক্ষার্থী ও দুই কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ এবং নওগাঁর রাণীনগর ও মান্দা উপজেলায় এই পৃথক দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। আকস্মিক এই মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় সকালে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হয়েছে রিয়াদ (১১) নামে এক পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় বৈকুণ্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে মাছ ধরতে গিয়েছিল রিয়াদ। এ সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি শুরু হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তীব্র বজ্রপাত হলে সে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছে। শান্ত ও মেধাবী রিয়াদের এমন অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও পুরো বৈকুণ্ঠপুর গ্রামে শোকের আবহ বিরাজ করছে।
এদিকে নওগাঁ জেলার পৃথক দুটি উপজেলায় জমিতে কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন—রাণীনগর উপজেলার মালশন গ্রামের খয়বর আলীর ছেলে সাখাওয়াত হোসেন (৫৫) এবং মান্দা উপজেলার এলেঙ্গা মৃধাপাড়ার তহির সরদারের ছেলে ইসমাইল সরদার (৫০)।
রাণীনগর উপজেলা: রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাকারিয়া জানান, সকালে সাখাওয়াত হোসেন বাড়ির পাশে নিজের জমিতে কৃষিকাজ করছিলেন। এ সময় ভারী বৃষ্টির সাথে বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
মান্দা উপজেলা: প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মতিন মণ্ডল জানান, একই সময়ে নিজ জমিতে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হন ইসমাইল সরদার। বিকট শব্দে হওয়া এই বজ্রপাতে তিনিও ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
সতর্কবার্তা: বর্ষা মৌসুমে দেশজুড়ে বজ্রপাতের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে খোলা মাঠ, জলাশয়, পুকুর কিংবা উঁচু স্থানে অবস্থান না করার জন্য সাধারণ মানুষকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন:
মোঃ কামরুল ইসলাম (সিরাজগঞ্জ)
গৌতম কুমার মহন্ত (নওগাঁ)
Leave a Reply