
মনোলোক |আন্তর্জাতিক : উত্তর ইরাকে এক মার্কিন সেনা নিহতের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তবে ড্রোন হামলার সরাসরি আঘাতে নয়, বরং ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ নিষ্ক্রিয় করার সময় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। একই সাথে জর্ডানে পূর্ববর্তী হামলার স্থান থেকে অজ্ঞাত কিছু মানবদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে তারা।
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, ১৮ জুলাই উত্তর ইরাকে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর এক সদস্য নিহত এবং অপর একজন আহত হন।
রোববার (১৯ জুলাই) রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, উত্তর ইরাকে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনীর সদস্যরা একটি ভূপাতিত ইরানি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’-এর অবিস্ফোরিত অংশ নিয়ন্ত্রিত উপায়ে নিষ্ক্রিয় (Controlled Detonation) করার কাজ করছিলেন। ওই সময় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটলে এক মার্কিন সেনা নিহত হন। এই ঘটনায় আরও এক সেনা সামান্য আহত হয়েছেন এবং তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ইরাকের এই ঘটনা ছাড়াও, গত ১৭ জুলাই জর্ডানের এক সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়েও হালনাগাদ তথ্য দিয়েছে সেন্টকম। ওই হামলায় আগেই দুই মার্কিন সেনা নিহতের খবর নিশ্চিত করা হয়েছিল এবং একজন নিখোঁজ ছিলেন।
সেন্টকম তাদের নতুন বিবৃতিতে জানিয়েছে, জর্ডানের ওই হামলাস্থলে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে কিছু অজ্ঞাত মানবদেহের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে। এগুলো নিখোঁজ থাকা মার্কিন সেনার কি না, তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে ডিএনএ পরীক্ষা ও পরিচয় শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পারদ বাড়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সংঘাত-সম্পর্কিত ঘটনায় মোট মার্কিন সেনা নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে নিহত ও নিখোঁজদের নাম-পরিচয় আপাতত প্রকাশ করেনি মার্কিন প্রশাসন।
সূত্র: সেন্টকম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
Leave a Reply