এক ছাতা, এক ব্যাকপ্যাক, আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—আধুনিক প্রযুক্তিতে বদলে যাচ্ছে সাংবাদিকতার চেহারা
Update Time :
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
১৮
Time View
মনোলোক প্রতিবেদন | ২১ জুলাই ২০২৬ : একসময় সংবাদ সংগ্রহের জন্য প্রয়োজন হতো বড় ক্যামেরা, আলাদা মাইক্রোফোন, ওবি ভ্যান এবং একাধিক কর্মীর সমন্বয়। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে এখন একজন সাংবাদিক বা ভিডিও ক্রিয়েটর একাই পুরো নিউজরুমের কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারী প্রতিবেদক বৃষ্টির মধ্যেই স্বচ্ছ ছাতা, ওয়্যারলেস মাইক্রোফোন, ব্যাকপ্যাকভিত্তিক লাইভ-স্ট্রিমিং ডিভাইস এবং স্মার্টফোন ব্যবহার করে সরাসরি সংবাদ পরিবেশন করছেন। প্রযুক্তিনির্ভর এই সেটআপটি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোবাইল জার্নালিজম (MoJo)-এর নতুন উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে একজন সাংবাদিক বা কনটেন্ট ক্রিয়েটরের জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে স্মার্টফোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), 5G ইন্টারনেট, ক্লাউড স্টোরেজ এবং লাইভ-স্ট্রিমিং প্রযুক্তি। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটনাস্থল থেকেই তাৎক্ষণিক ভিডিও ধারণ, সম্পাদনা, সাবটাইটেল তৈরি, ভয়েসওভার, অনুবাদ এবং সরাসরি সম্প্রচার করা সম্ভব হচ্ছে।
শুধু সংবাদমাধ্যম নয়, ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ভিডিও নির্মাতারাও এখন AI-নির্ভর ভিডিও এডিটিং, স্বয়ংক্রিয় ক্যাপশন, নয়েজ রিডাকশন, ভার্চুয়াল ভয়েস এবং স্মার্ট ক্যামেরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম সময়ে আরও মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করছেন।
তবে প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি তথ্যের সত্যতা, নৈতিকতা এবং দায়িত্বশীলতা। AI বা আধুনিক ডিভাইস সংবাদ তৈরির গতি বাড়াতে পারে, কিন্তু তথ্য যাচাই ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকেরই।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক বছরে AI-সহায়ক মোবাইল সাংবাদিকতা (AI-assisted Mobile Journalism) আরও বিস্তৃত হবে। ফলে একজন দক্ষ সাংবাদিক বা ভিডিও ক্রিয়েটর কেবল একটি স্মার্টফোন ও কয়েকটি স্মার্ট ডিভাইস দিয়েই বিশ্বমানের সংবাদ ও ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করতে সক্ষম হবেন।
Leave a Reply