
মনোলোক : দেশজুড়ে আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় ও বিস্তারিত কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস ২০২৬’। বিশ্ব শান্তিরক্ষায় জীবন উৎসর্গকারী বীর শান্তিরক্ষীদের আত্মার মাগফিরাত ও আহত শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে দিবসটির মূল কার্যক্রম শুরু হয়। দিবসটির তাৎপর্য ও গুরুত্ব তুলে ধরে আজ দেশের জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতারে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
আজ পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ পুলিশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের এক গর্বিত অংশীদার। ১৯৮৯ সালে নামিবিয়া মিশনের মাধ্যমে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবময় পদযাত্রা শুরু হয়েছিল। বিগত প্রায় চার দশক ধরে বাংলাদেশ পুলিশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের সংঘাত ও যুদ্ধবিধ্বস্ত বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৮৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মোট ২১,৮২৮ জন শান্তিরক্ষী বিশ্বের ২৫টি দেশে ২৭টি শান্তিরক্ষা মিশনে অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে ১,৯২৮ জন নারী পুলিশ সদস্য রয়েছেন, যাঁরা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। তবে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার এই মহৎ লড়াইয়ে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ পুলিশের ২৫ জন বীর সদস্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং ১৫ জন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের ৮ জন নারী কর্মকর্তাসহ মোট ৩৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা ইউএনপোল (UNPOL) এবং জাতিসংঘ সদরদপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে (UN Job) নিয়োজিত রয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০০০ সাল থেকে পুলিশের নারী সদস্যরা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় হাইতিতে খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশের আরও ৫২৫ জন সদস্য শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত হতে যাচ্ছেন।
পুলিশের শান্তিরক্ষীদের গৌরবময় ভূমিকার কথা স্মরণ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তারা নানা প্রতিকূলতা, বৈরী পরিবেশ ও ঝুঁকি জয় করে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন। শান্তিরক্ষীগণ কেবল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করেননি, বরং স্থানীয় জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের আস্থা অর্জন করেছেন। বিশেষ করে হাইতির ভয়াবহ ভূমিকম্প-কবলিত মানুষের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে এবং আফ্রিকা ও ইউরোপের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে অসাধারণ মানবিক ভূমিকা পালন করে তারা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
জাতিসংঘের ম্যান্ডেট অনুযায়ী শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত থেকে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশ সদা অঙ্গীকারবদ্ধ। শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশের এই গৌরবোদ্দীপ্ত ও অনন্য অবদান বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রতিবছর ২৯ মে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে থাকে। তবে এ বছর উক্ত দিনটিতে বাংলাদেশে সরকারি ছুটি থাকায়, দিবসটির রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি আজ ১০ জুন ২০২৬ তারিখে উদযাপন করা হচ্ছে।
Leave a Reply