
মনোলোক | ঢাকা : রাজধানীতে অভিনব কায়দায় শেয়ার রাইডিংয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বেসরকারি ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে অপহরণ করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় আন্তঃজেলা অপহরণকারী চক্রের মূল দুই হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় অপহরণে ব্যবহৃত তিনটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সন্ধ্যায় অফিস শেষে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড মোড়ে একাকী দাঁড়িয়ে প্রাইভেট কারের অপেক্ষা করছিলেন একটি বেসরকারি ব্যাংকের ম্যানেজার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। এ সময় রাইড শেয়ারের যাত্রী সেজে আসা একটি সাদা রঙের প্রাইভেট কার তার সামনে থামে। গন্তব্য ও ভাড়া মিলে যাওয়ায় কামরুজ্জামান গাড়িটিতে ওঠেন। কিন্তু তিনি ওঠার আগেই যাত্রীর বেশে পেছনের সিটে ওঁৎ পেতে বসে ছিল সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্যরা।
গাড়িতে ওঠার কিছুক্ষণ পরেই চলন্ত অবস্থায় ব্যাংকার কামরুজ্জামানকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়। হাত-মুখ বেঁধে তার ওপর চালানো হয় তীব্র মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। গাড়িটি রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরিয়ে তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও ৩টি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর জিম্মি কামরুজ্জামানের মোবাইল ফোন থেকেই তার স্বজনদের কাছে কল দিয়ে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ)-এর মাধ্যমে দাবি করা টাকা পাঠিয়ে দেয়। টাকা পাওয়ার পর গভীর রাতে ৩০০ ফিট গোলচত্বর এলাকায় তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতকারীরা।
ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী কামরুজ্জামান রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার তদন্তে নামে। তদন্তের একপর্যায়ে রাজধানীর মিরপুর এবং পার্শ্ববর্তী মুন্সিগঞ্জ জেলায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল দুই হোতাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। একই সঙ্গে অপরাধে ব্যবহৃত প্রাইভেট কারসহ মোট ৩টি গাড়ি জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, শেয়ার রাইডিংয়ের নামে সাধারণ যাত্রীদের বিভ্রান্ত করে অপহরণ ও লুণ্ঠন করাই ছিল এই চক্রটির মূল পেশা। তারা দীর্ঘদিন ধরে যাত্রী সেজে পথচারীদের তুলে নিয়ে অস্ত্রের মুখে অর্থ আদায় করে আসছিল। গ্রেপ্তার হওয়া অপরাধীদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় অন্তত ৯টি অপহরণ ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে।
এ বিষয়ে খিলক্ষেত থানা পুলিশ জানায়, “সাধারণ মানুষের সরলতা ও জরুরি প্রয়োজনের সুযোগ নিয়ে যারা এসব জঘন্য অপরাধ ঘটাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের আন্তঃজেলা অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
Leave a Reply