
মনোলোক : ১৩ বছর বয়স—যে বয়সে শৈশবের আনন্দ, পড়াশোনা ও খেলার মাঠে দৌড়াদৌড়ি করার কথা, সে বয়সে সন্তান কোল নিয়ে আদালতের বারান্দায় ঘুরতে হচ্ছে এক কিশোরীকে। মাত্র ১৩ বছর ৪ মাস বয়সী এই শিশু-মায়ের কাছ থেকে তার ৭ মাসের সন্তানকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা এখন স্থান পেয়েছে আদালতের আইনি প্রক্রিয়ায়।
মূল ঘটনা ও ভুক্তভোগীর আকুতি
ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়। গভীর রাতে বাড়িতে নিয়ে এসে চিকিৎসা করানোর নাম করে বা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সুযোগ না দিয়েই বারবার কেড়ে নেওয়া হতো। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজন জোরপূর্বক শিশুটিকে ছিনিয়ে নিয়ে লুকিয়ে রাখে। গত তিন মাস ধরে নিজের সন্তানকে না দেখতে পেয়ে এবং তার কোনো খোঁজ-খবর না পেয়ে অবশেষে আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হয়েছেন এই কিশোরী মা।
আইনের চোখে বাল্যবিবাহ ও শিশুসুরক্ষা
ঘটনাটি নিয়ে আইনজীবীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে:
আইনি বয়সসীমা: দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে কোনো কিশোরী প্রাপ্তবয়স্ক নয় এবং তাদের বিবাহ সামাজিকভাবে ও আইনিভাবে বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য।
শিশু অধিকার ও হেফাজত: ১৩ বছরের এক কিশোরী নিজে একজন ‘শিশু’ হওয়া সত্ত্বেও এখন আরেক শিশুর জন্মদাত্রী মা। আদালতের আইনজীবীরা জানান, ৭ মাসের একটি দুগ্ধপোষ্য শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য মায়ের কাছে থাকা অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমান পরিস্থিতি
আদালত প্রাঙ্গণে শিশুটিকে কোলে নিয়ে অশ্রুসজল চোখে বিচারের আশায় প্রহর গুনছেন এই কিশোরী। সন্তানের ওপর মায়ের স্বাভাবিক আইনি ও মানবিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এখন আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ মানুষ।
নোট: দেশের আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সী বিবাহ শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং শিশু ও নাবালকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আদালতের প্রথম অগ্রাধিকার।
Leave a Reply