
মনোলোক : হামাসের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় প্রেমিকাকে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি এক ইসরায়েলি যুবক। প্রায় তিন বছর পর সেই প্রেমিকার কবরের সামনেই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের মানসিক যন্ত্রণা ও শোক থেকে মুক্তি পেতেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
নিহত যুবকের নাম বার আসরফ। তার প্রেমিকা লিরন বার্দা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময় নোভা মিউজিক ফেস্টিভ্যালে কর্মরত ছিলেন। তিনি সেখানে বার ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। হামলায় লিরন নিহত হন। এরপর থেকেই আসরফ গভীর শোক ও মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
আসরফের এক বোন জানান, সম্প্রতি তাদের আরেক ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও তিনি নিজেকে একাকী অনুভব করছিলেন। একসময় অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে যান। প্রথমে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি স্বাভাবিক ভেবেছিলেন, কারণ তিনি প্রায়ই একা সময় কাটাতেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও ফিরে না আসায় তারা খোঁজ শুরু করেন।
খোঁজ করতে গিয়ে তারা লিরন বার্দার কবরস্থানে পৌঁছান। পরিবারের দাবি, আসরফ প্রায়ই সেখানে গিয়ে প্রেমিকার কবরের সামনে বসে কথা বলতেন। সেখানেই তাকে মাটিতে শায়িত অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। প্রথমে মনে হয়েছিল তিনি ঘুমিয়ে আছেন। পরে রক্তের দাগ ও পাশে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দেখে পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলের ওপর নজিরবিহীন হামলা চালায়। রকেট হামলার পাশাপাশি স্থলপথে অনুপ্রবেশ করে হামলাকারীরা। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ওই হামলায় প্রায় ১,২০০ জন ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিক নিহত হন এবং ২৪০ জনের বেশি মানুষকে জিম্মি করা হয়। হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল নোভা মিউজিক ফেস্টিভ্যাল, যেখানে শত শত মানুষ প্রাণ হারান। এর জবাবে গাজায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ, সন্ত্রাসী হামলা ও আকস্মিক প্রিয়জন হারানোর মতো ঘটনা দীর্ঘমেয়াদে গভীর মানসিক আঘাত সৃষ্টি করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এই ট্রমা বছরের পর বছর ধরে মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে বিপর্যস্ত করে রাখে। বার আসরফের মৃত্যু সেই দীর্ঘস্থায়ী মানসিক ক্ষতেরই একটি মর্মান্তিক উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
Leave a Reply