
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে বলেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের বিচারের যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়েছিল, এখন পর্যন্ত ঘোষিত ছয়টি রায়ের মাধ্যমে সেই প্রতিশ্রুতির বড় অংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি জানান, আরও অনেক মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।
২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেয়। একই মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং শহীদ পরিবার ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং সাবেক এডিসি আখতারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আরও পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আশুলিয়ায় ছয়টি লাশ পোড়ানো ও একজনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আরও কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।
২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশাসনের আরও ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
২০২৬ সালের ৩০ জুন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুইটি অভিযোগে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সব ঘটনার বিচার সম্পন্ন করতে বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply