
মনোলোক : কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৫৭০ জন।
সোমবার (১০ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ৭:৩৪ মিনিটে শক্তিশালী এই কম্পনে কেঁপে ওঠে পুরো দেশ।
ভূমিকম্পের পর অঞ্চলটিতে দফায় দফায় বেশ কয়েকটি আফটারশক অনুভূত হয়, যা উদ্ধারকাজে তীব্র বাধা সৃষ্টি করছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-র তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার এলাকায়। এটি ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়।
এক নজরে ক্ষয়ক্ষতির পরিস্থিতি:
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা: ক্যালি, পেরেইরা, কুইবদো ও মানিজালেস শহরে শত শত স্থাপনা বিধ্বস্ত হয়েছে।
পেরেইরা শহর: রিসারালদা অঞ্চলের পেরেইরা শহরে একা অন্তত ৬০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
ক্যালির করুণ চিত্র: দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর ক্যালিতে অন্তত ২০টিরও বেশি ভবন সম্পূর্ণরূপে ধসে পড়েছে এবং প্রায় ৩৮০টি স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জরুরি অবস্থা ও রেড অ্যালার্ট: নতুন শপথ নেওয়া প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা দেশে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং দেশটির প্রধান পাঁচটি ক্যাপিটাল সিটিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা (রেড অ্যালার্ট) জারি করা হয়েছে।
ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে সাধারণ মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবকেরা হাতে হাত মিলিয়ে মানবশৃঙ্খল তৈরি করে কংক্রিটের ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করছেন। ক্ষয়ক্ষতি ও অবকাঠামোগত নিরাপত্তার স্বার্থে পেরেইরা, মানিজালেস, কুইবদোসহ পশ্চিমাঞ্চলের ৬টি বিমানবন্দরে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একবিংশ শতাব্দীতে কলম্বিয়ায় রেকর্ড হওয়া অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্প এটি। প্রতিবেশী ইকুয়েডর, ভেনেজুয়েলা ও পানামাতেও এর তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে।
Leave a Reply