
মনোলোক ডেস্ক | আন্তর্জাতিক : পারস্য উপসাগরীয় চার আরব মিত্র—বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ৫,২৫০টি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর।
সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে ৩৮ দিনের যুদ্ধের সময় সৌদি আরব তার প্যাট্রিয়ট PAC-3 ইন্টারসেপ্টর মজুদের প্রায় ৮৬ শতাংশ ব্যবহার করেছে। প্রায় ২,৮০০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে মাত্র ৪০০টির মতো অবশিষ্ট থাকার দাবি করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আরব মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পুনর্গঠনের পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতার মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক কৌশলের অংশ হিসেবেও এ অস্ত্র সরবরাহকে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুদও চাপের মুখে রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একই সময়ে থাড (THAAD) ইন্টারসেপ্টরের মজুদ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই ঘাটতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর উৎপাদন বাড়াতে লকহিড মার্টিনের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৫৮.৬ বিলিয়ন ডলারের বহুবছরের চুক্তি করেছে। ২০২৬ থেকে ২০৩২ সাল পর্যন্ত এই চুক্তির আওতায় PAC-3 MSE ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন সক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে বছরে প্রায় ৬০০টি ইন্টারসেপ্টর উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও তা ২০২৬ সালে প্রায় ৮৫০ এবং ২০২৮-২৯ সালের মধ্যে প্রায় ২,২৫০টিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি আগামী কয়েক বছরেও পুরোপুরি কাটবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্র ও কিয়েভের মধ্যে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য ব্যবস্থার আওতায় ইউক্রেনে কিছু সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ উৎপাদন এবং ইউরোপের অন্য কোনো দেশে চূড়ান্ত সংযোজনের প্রস্তাব রয়েছে।
সব মিলিয়ে, আরব দেশগুলোর কাছে বিপুলসংখ্যক প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর বিক্রির সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন উপসাগরীয় মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষা পুনর্গঠনের চেষ্টা, অন্যদিকে তেমনি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ—দুই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিশ্রুতি এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপেরও প্রতিফলন।
তবে এত বড় অস্ত্র সরবরাহের ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে এটি পশ্চিম এশিয়ার সামরিক ভারসাম্য ও ভবিষ্যৎ সংঘাতের গতিপথেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: পার্সটুডে/এমএআর
Leave a Reply